স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া এবং পেশাভিত্তিক হিসেবে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ সাধারণ মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন এবং সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা সার্বজনীন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মতিঝিলে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ক্লাবটির নবনির্বাচিত সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলুর (এমপি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী এবং আবাহনী ক্লাবের সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু বক্তব্য দেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, খেলাধুলার জগৎ একটি আলাদা জগৎ, যেখানে সম্পৃক্ত হলে আত্মিক প্রশান্তি অনুভূত হয়। এসময় তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিশেষ করে ক্রিকেটের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল বেশি। একসময় তিনি ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন চিন্তা ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকেই খেলাধুলাকে গ্রামাঞ্চলসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খেলোয়াড়দের ভাতা প্রদান বা সম্মাননা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে খেলোয়াড়রা যেন ভবিষ্যতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা। এ লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার ওপর জোর দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে যেন কোনো মেধাবী খেলোয়াড় দল বা জাতীয় দল থেকে বাদ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এটি ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এ ধরনের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ ক্রীড়া নেতৃত্ব অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং তাদের নেতৃত্বে ক্রীড়াঙ্গন আরও এগিয়ে যাবে। নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্বে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ভবিষ্যতে আরও সফলতা অর্জন করবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া ক্লাবগুলো দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রায় শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এসব ক্লাব ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
তিনি সুস্থ প্রতিযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, তবে মাঠের বাইরে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয়। তিনি অতীতের অন্ধকার সময় ভুলে গিয়ে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন এবং নতুন উদ্যম নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়ারও আহ্বান জানান।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা বিভাজনের ভিত্তিতে নয়।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে বৈষম্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, গত ১৬-১৭ বছরে খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পাওয়ায় অনেক প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ বঞ্চিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, একজন খেলোয়াড়ের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার দক্ষতা ও অর্জনের ভিত্তিতে। তিনি কোন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করে বা তার পারিবারিক পরিচয় কী— এসব বিবেচনায় এনে তাকে মূল্যায়ন করা উচিত নয়।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ক্রীড়া, সংস্কৃতি বা অন্যান্য ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার একটি ধারা তৈরি করেছেন। তার নেতৃত্বে সব ক্ষেত্রে মেধা ও দক্ষতার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরটিভি/এমএইচজে




