মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত ৬ জন বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। নিহতদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রীয় সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাহরাইন থেকে আসা এমনই একজন হতভাগ্য রেমিট্যান্স যোদ্ধা এস এম তারেকের মরদেহ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রবাসীদের আশ্বস্ত করে বলেন, চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি নতুন ভিসা কিংবা পুরনো ভিসার মেয়াদ নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন, তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন প্রবাসে নিরাপদে জীবনযাপন ও কাজ করতে পারেন, তার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় স্থানীয় দূতাবাসগুলো সবসময় সতর্ক ও সক্রিয় রয়েছে।
মরদেহ গ্রহণের সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। নিহত তারেকের স্বজনদের হাতে তাৎক্ষণিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি পরিবারটিকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী জানান, “নিয়ম অনুযায়ী আমরা নিহতের তাৎক্ষণিক দাফন-কাফনের জন্য বিমানবন্দর থেকেই ৩৫ হাজার টাকা দিচ্ছি। এর পাশাপাশি পরিবারের আকস্মিক আর্থিক ঘাটতি মেটাতে আরও ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মীর ইন্সুরেন্স বা বিমার চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তীতে নিহতের পরিবারকে পাওনা বাবদ ১০ লাখ টাকা দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।”
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কোনো অসহায় প্রবাসী যেন রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সচেষ্ট রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরটিভি/এআর




