ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

১৬ বছরের লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
সংসদে বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

বিগত ১৬ বছরের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের ফলে দেশের অর্থনীতি আজ ধ্বংসের কিনারে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, শুধু অর্থনীতিই নয়, বরং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিটি খাতকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বিগত সরকারের সামষ্টিক অর্থনীতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.১৭ শতাংশের মধ্যে। কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছরের অপশাসন ও ভুল নীতির কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধির হার কমে ৪.২২ শতাংশে নেমে এসেছে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৭৩ শতাংশে।

আরও পড়ুন

শিল্প ও কৃষি খাতের বিপর্যয় তুলে ধরে তিনি জানান, ২০০৫-০৬ সালে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি যেখানে ছিল ১০.৬৬ শতাংশ, বর্তমানে তা মাত্র ৩.৫১ শতাংশে ঠেকেছে। একইভাবে কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধি ৫.৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৩.৩০ শতাংশ হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী দেশের শ্রমবাজারের গভীর সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত এক দশকে শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় তরুণরা বাধ্য হয়ে কৃষির ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। বর্তমানে দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৪১ শতাংশ কৃষি খাতে নিয়োজিত থাকলেও জাতীয় উৎপাদনে (জিডিপি) এই খাতের অবদান মাত্র ১১.৬ শতাংশ। এর ফলে ছদ্ম-বেকারত্ব বাড়ছে এবং তরুণ শ্রমশক্তির উৎপাদনশীলতা নষ্ট হচ্ছে।

বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, অর্থনীতির সূচকগুলো কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হলেও বাস্তব চিত্র অত্যন্ত নাজুক। এই ‘কর্মসৃজনবিহীন প্রবৃদ্ধি’ দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আমীর খসরু বলেন, ২০০১-০৬ সময়ে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের মধ্যে একটি সুস্থ ভারসাম্য বজায় রাখতে নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, যেখানে জাতীয় সঞ্চয় জিডিপির ২৯.৯৪ শতাংশ এবং মোট বিনিয়োগ ছিল ২৮.৭৫ শতাংশ। ২০২৩-২৪ সালে এই চিত্র উল্টে গেছে, বিনিয়োগ জিডিপির ৩০.৭০ শতাংশ হলেও সঞ্চয় নেমে এসেছে ২৮.৪২ শতাংশে।

বিনিয়োগ সঞ্চয়কে ছাড়িয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত চাহিদা বৈদেশিক উৎস হতে সংস্থান করা হয়েছে। ফলে বহিঃ খাতের ওপর চাপ বেড়েছে। ২০০৫-০৬ সালে প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল ৬৭.২ টাকা। ২০২৩-২৪ সালে সেটা হয়েছে ১১১ টাকা এবং ২০২৪-২৫ সালে আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ টাকায়।

ক্রমাগত অবচিতির কারণে ১৫ বছরে টাকার মান প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়, যা মূল্যস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করেছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতাকে কমিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ (এম২) প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯.৩ শতাংশ ও রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধি ছিল ২৩.৯ শতাংশ, যা অর্থনীতিতে প্রাণশক্তির ইঙ্গিত দেয়।

তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়ায় মাত্র ৭.৭ শতাংশ এবং রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৯ শতাংশ। জুন ২০০৬-এ অভ্যন্তরীণ সম্পদের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯.৫ শতাংশ, যা ২০২৫-এ নেমে এসেছে ৬.৭ শতাংশে। অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধিও ২১.১ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ মন্থরতা ও ব্যাংকিং খাতে তারল্য চাপের বহিঃপ্রকাশ।

২০০৫-০৬ সালে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮.৩ শতাংশ। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সময়ে মুদ্রানীতির অব্যবস্থাপনাসহ কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৯.৮ শতাংশে নেমে আসে, যা ২০২৪-২৫ সালে আরও কমে ৬.৫ শতাংশে এসে পৌঁছেছে।

রাজস্ব আদায় নিয়ে আমীর খসরু বলেন, বিগত সরকারের সময়ে রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থায়ও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। কর-জিডিপি অনুপাত সন্তোষজনক মাত্রায় উন্নীত করা সম্ভব হয়নি এবং রাজস্ব ফাঁকি ও অপচয়ের কারণে সরকারের সম্পদ আহরণ সক্ষমতা সীমাবদ্ধ থেকেছে। ২০০৫-০৬ সালে মোট রাজস্ব ছিল ৪৩৯ বিলিয়ন টাকা, যা জিডিপির ৮.২ শতাংশ। ব্যয় ছিল ১১.১ শতাংশ, ফলে বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ২.৯ শতাংশ।

২০২৩-২৪ সালে রাজস্ব বেড়ে ৪,০৯০ বিলিয়ন টাকায় দাঁড়ালেও জিডিপির অনুপাতে তা ৮.২ শতাংশেই স্থির থাকে। অন্যদিকে, ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১২.২ শতাংশে, ফলে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৪.০৫ শতাংশে। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজেট ঘাটতি কমানো যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, শুধু বাজেট ঘাটতি যে বেড়েছে তাই নয়, এ বৃদ্ধির মানও প্রশ্নবিদ্ধ। প্রকল্প ছিল অতিমূল্যায়িত এবং এগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাইও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে করা হয়নি। বিগত সরকারের আমলে বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্পগুলো এই ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ্য।

ফলশ্রুতিতে জনগণ সেই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল ভোগ করতে পারেননি। লুটপাটের মাধ্যমে লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে বিশদভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

আরটিভি/এমআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইকবাল সোবহানকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত‍্যা মামলায় 
বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
ইকবাল সোবহানকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত‍্যা মামলায় 
আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে প্রথমে হেলিকপ্টারে মোংলা যাবেন প্রধানমন্ত্রী, এরপর সেখান থেকে সড়ক পথে খুলনা যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। 
আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে আগের মতো এখন আর ভোগান্তি নেই: বিমানমন্ত্রী 
বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহ ও ব্যাগ নিয়ে যাত্রীদের আগের মতো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার মান নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে সম্প্রতি দেখা দেওয়া যান্ত্রিক ত্রুটি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, ঢাকা থেকে উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় যাত্রা শুরু করেছিল। তবে জাপান থেকে ফেরার পথে উড়োজাহাজের ডানার পেছনের অংশে থাকা ফ্ল্যাপে কিছুটা যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। এ ধরনের ছোটখাটো ত্রুটি উড়োজাহাজ চলাচলে অস্বাভাবিক নয়। তবে এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পূর্ণাঙ্গভাবে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্যে জাপানের দেওয়া বিভিন্ন শর্ত মেনে নেওয়া হয়েছে। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে বর্তমান টার্মিনাল ১ ও ২ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করা হবে। তবে টার্মিনাল দুটি পরিত্যক্ত রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নতুন টার্মিনালে স্থানান্তরের পর পুরোনো দুটি টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি কার্গো, চার্টার্ড ও ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনার কাজেও এগুলো ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া সরকার নতুন একটি বাজেট এয়ারলাইন্স চালুর পরিকল্পনা করছে। এর কার্যক্রমও টার্মিনাল ১ ও ২-কে কেন্দ্র করে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই বলেও জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করতে অন্তত ১০ থেকে ১২ বছর সময় প্রয়োজন। আর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ বছর লেগে যায়। তাই আপাতত বিদ্যমান বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার উন্নতির এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী। আরটিভি/এসকে
বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে আগের মতো এখন আর ভোগান্তি নেই: বিমানমন্ত্রী 
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক: শ্রমমন্ত্রী
শ্রমমন্ত্রী বলেছেন, যেসব মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তারা যেন সেগুলো খুলে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। শ্রমিক নেতাদেরও নিজ নিজ কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক: শ্রমমন্ত্রী
হরমুজ পার হতে বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে যাতায়াত করতে হলে অবশ্যই ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দেওয়া নিয়ম মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো দেশই এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে নিরাপদে জ্বালানি পরিবহন করতে পারবে না। হরমুজ পার হতে অবশ্যই ইরানের বেঁধে দেওয়া নির্দেশনা মানতে হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেসব হামলার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশসহ কোনো দেশের জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণকে ‘মুসলিম ভাই-বোন’ উল্লেখ করে বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহায়তার আশ্বাস দেন। তি‌নি ব‌লেন, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। তবে এই সংকটকালীন বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ, আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ পারাপারে ইরান সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এ সময় ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি। তি‌নি ব‌লেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান যৌক্তিক। ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের ম‌নোভাব বা সমর্থ‌নে আমরা খু‌শি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স‌ঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নে জালিল রাহিমি ব‌লেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স‌ঙ্গে সমঝোতার মা‌নে আত্মসমর্পণ। এটা কখ‌নো মে‌নে নে‌বে না ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে পূর্ণ শক্তিতে তাদের গুঁড়িয়ে দিতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে ইরান নিজে থেকে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত চায় না। মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সাথে ইরানের কোনো বিরোধ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে যদি ইরানের ওপর হামলা না হয়, তবে ইরান কখনোই কোনো আরব দেশে আক্রমণ করবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ইরানের ‘রেড লাইন’ হিসেবে ঘোষণা করে তিনি এ অঞ্চলে পশ্চিমা হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ‘মক্কা চুক্তি’ গঠনের প্রস্তাব দেন। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তি‌নি বলেন, এই দ্বন্দ্ব ইরানের ইসলামি বিপ্লবের অনেক আগের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ইয়েমেনের হুথি, ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের হাশদ আল-শাবির প্রতি ইরানের শক্তিশালী রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন রয়েছে। আরটিভি/টিআর
হরমুজ পার হতে বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত
আরও পড়ুন
কৃষিঋণ মওকুফে স্বস্তিতে ১৪ লাখ কৃষক, চাঙা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি
সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতিতে পরিণত করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী
নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ‘বড় উদ্যোগ’
গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ৭৫ মরদেহ, একসঙ্গে জানাজা