‘সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে’

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:০৬ পিএম


‘সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে’
বুধবার সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথা বলেন। ছবি: ‍পিআইডি

নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুততম সময়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি’ গ্রহণ করেছে সরকার। 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার কথা জানান। 

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক—এই দর্শনেই সাজানো হয়েছে সরকারের আগামী ১৮০ দিনের রোডম্যাপ। তবে সরকার কেবল পরিকল্পনা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং গত কয়েক সপ্তাহে অনেকগুলো মাইলফলক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। 

প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ৩৮ হাজার নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মাসিক আড়াই হাজার টাকা প্রদান শুরু হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের জন্য পহেলা বৈশাখে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শস্য ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এর ফলে দেশের ১৩ লাখ ১৭ হাজার কৃষক সরাসরি ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন, যার জন্য সরকার ১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

আরও পড়ুন

জনসাধারণের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ১৮০ দিনের মধ্যে ৫টি জেলায় ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের জন্য ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ড্রেস বিতরণের কাজও এই স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।

বেকারত্ব দূরীকরণে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার মোট ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এটি জাপানসহ বিভিন্ন দেশে গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক হবে।

১৮০ দিনের এই পরিকল্পনায় খাল খনন ও বৃক্ষরোপণকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন করে পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের কাজও এই মেয়াদের মধ্যেই শুরু হবে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission