সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুননের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রোববার (১৯ এপ্রিল) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেলা ১১টায় মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নারী কর্মীদের অধিকার ও ক্ষমতায়ন, শিশু শ্রম নিরসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সমন্বয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে দেশের দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আইএলওর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারের উদ্যোগে শিশুদের জন্য চাইল্ড কেয়ার সেন্টার, ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এ সময় তিনি নারী ও শিশুর উন্নয়ন, নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নে কেয়ার গিভার, ভাষা শিক্ষা, বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে আইএলওর প্রযুক্তিগত সহায়তা কামনা করেন। সেইসঙ্গে বেকারত্ব নিরসন এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ সম্প্রসারণে আইএলওর সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার ব্যাপারে মন্ত্রী আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সহিংসতা ও হয়রানিমুক্ত কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করা, শহরাঞ্চল ও দেশের ৬৪টি জেলায় শিশু পরিচর্যা পরিষেবা সম্প্রসারণ করা, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দক্ষ পরিচর্যাকারীদের একটি সনদপ্রাপ্ত ক্যাডার তৈরি করা, নারী পরিচর্যাকারীদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশে শিশুশ্রম নির্মূলের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করাসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বৈঠক চলাকালে মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আইএলও কাঠামোগত বাধা দূরীকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের পথ তৈরির লক্ষ্যে ‘জেন্ডার অ্যান্ড স্কিলস টাস্কফোর্স’ এবং ‘জেন্ডার অ্যান্ড স্কিলস অ্যাকশন প্ল্যান’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে নারী শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
আইএলও একটি সর্বাত্মক সরকারি ও সর্বাত্মক সামাজিক পদ্ধতির মাধ্যমে সার্বজনীন, সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত শিশু যত্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ‘জাতীয় শিশু যত্ন রোডম্যাপ’ এবং ‘শিশু যত্নের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মান’ প্রণয়নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে (এমওডব্লিউসিএ) প্রদত্ত কারিগরি সহায়তার ওপরও জোর দেয় বলেও জানান তিনি।
ম্যাক্স টুনন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ও নারী-শিশু উন্নয়ন উদ্যোগগুলো প্রশংসনীয়। আইএলও বাংলাদেশে শ্রম অধিকার, লিঙ্গ সমতা এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
এই আলোচনায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির যেমন— ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতার সঙ্গে আইএলওর বিভিন্ন প্রকল্পের সমন্বয়, শিশু শ্রম নিরসন এবং নারী কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
উভয়পক্ষ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন, শিশু সুরক্ষা এবং দক্ষ কেয়ার গিভার প্রস্তুতিতে কর্মসূচি প্রকল্পে আর্থিক সাহায্য (গ্রান্ট) ত্বরান্বিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন এনডিসি, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইএলও প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এমএইচজে



