‘জঙ্গি শব্দটি ফ্যাসিবাদ আমলে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো’

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:৫০ পিএম


‘জঙ্গি শব্দটি ফ্যাসিবাদ আমলে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো’
ছবি: সংগৃহীত

দেশে জঙ্গি উত্থান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমি ওই শব্দকে (জঙ্গি) রিকগনাইজ (স্বীকার) করি না। আমাদের দেশে এরকম কোনো তৎপরতা নেই। কিছু এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ (উগ্রপন্থি গোষ্ঠী) থাকে, পৃথিবীর সব দেশেই এরা সক্রিয় থাকে। র‌্যাডিকেল কিছু ফোর্স থাকে, ফান্ডামেন্টাল কিছু পলিটিক্যাল পার্টি থাকে এগুলো আমরা ইউজড টু, এগুলো থাকে। কিন্তু সে বিষয়ে আপনি যে শব্দ উচ্চারণ করলেন, আমাদের দেশের বর্তমান কালচারে সেটা আর নেই। আগে সেই শব্দটা উচ্চারিত হতো ফ্যাসিবাদী আমলে। তারা নিজস্ব রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে এগুলোকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করত। বর্তমানে সেগুলোর অস্তিত্ব নেই। 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেড় দশকে শত শত গুমের অভিযোগ অনুসন্ধানে কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন বলেছিল, জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের ছায়ায় ইসলামি উগ্রবাদের হুমকিকে ব্যবহার করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার গুমকে ‘একটি সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ’ দিয়েছিল। 

এদিকে বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর এক সতর্কবার্তায় জানায়, ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা’ জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। এরপর দেশের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় দিবস বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) ঘিরে সব সময় স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনাল প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং বিভিন্ন বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হয়, যা অতীতেও ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নজরদারি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে সব দেশেই প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা থাকে। কোনো সদস্য দেশবিরোধী বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখতে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করে। এ ধরনের ঘটনায় প্রচলিত সামরিক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যা নতুন কিছু নয়।

এ সময় আরেক প্রশ্নের জবাবে মাঠে থাকা সেনা সদস্যদের ‘ধীরে ধীরে’ প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এটা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হচ্ছে, খুব শিগগির পুরোটা প্রত্যাহার হবে। তবে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় তারা সব সময় থাকবে।

এর আগে কোস্ট গার্ড প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোস্ট গার্ডকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসাবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এরই মধ্যে বাহিনীর বহরে তিনটি সার্ভেইল্যান্স ড্রোন যুক্ত হয়েছে এবং নতুন জাহাজ সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জনবল বৃদ্ধি করে ১০ হাজারে উন্নীত, অপারেশন সক্ষমতা বাড়াতে মেরিটাইম হেলিকপ্টার এবং নতুন জলযানসহ আধুনিক ড্রোন সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া হাওড় অঞ্চলেও কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম সম্প্রসারণের চিন্তা করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে মালটিরোল রেসপন্স ভেসেল ও অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চগতির বুলেটপ্রুফ বোট সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা উপকূলীয় এলাকায় অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা, বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য বাহিনীটির ১৪ জনকে পদক প্রদান করেন। এর মধ্যে ৪ জন কোস্ট গার্ড পদক, ৪ জন কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, ৩ জন প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং ৩ জন প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক পেয়েছেন।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission