সিলেটের সড়ক ও রেলপথের উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬ , ০১:৩৩ পিএম


সিলেটের সড়ক ও রেলপথের উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
সিলেটের সড়ক ও রেলপথের উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা। ছবি: আরটিভি

সিলেটের সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন নিয়ে সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণ কাজের জমি অধিগ্রহণে ১১টি জায়গায় সমস্যা ছিল। এ সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে দূর করা হয়েছে। আমরা ঢাকা-সিলেট রেল রেলপথেকে ডাবল লাইন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমরা আশা করছি, আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারব।

শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আমি যখন সিলেট এসেছিলাম তখন বলেছিলাম, সিলেট থেকে লন্ডন যেতে ৯ সাড়ে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ সিলেট থেকে বাইরোডে ঢাকা যেতে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই আমি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়নের কথা বলেছিলাম।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণ কাজের জমি অধিগ্রহণে ১১টি জায়গায় সমস্যা ছিল। এ জন্য কাজ আটকে ছিল। এ সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে দূর করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারব। কাজ শেষ হতে দেরি হবে। তবে শুরু হলে তো শেষও হবে। এতে মানুষের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব হবে।

কেবল সড়কপথ নয়, সরকার রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগও নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তা যত বড় করবে তত গাড়ি নামবে। তত ট্রাফিক জ্যাম বাড়বে। রাস্তা বড় করলে ফসলি জমিও নষ্ট হবে। এ জন্য রেলের উন্নয়ন করতে হবে। আমরা ঢাকা-সিলেট রেল রেলপথেকে ডাবল লাইন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

সিলেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ২০০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সিলেট হাসপাতালকে (ওসমানী হাসপাতাল) আমরা ১২ শয্যার উন্নীতের চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, কেবল চিকিৎসাব্যবস্থা নয়, আমাদের মতো দেশগুলোকে রোগ প্রতিরোধেও সচেতন হওয়া দরকার। এ জন্য আমরা ১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করব। যাদের ৮০ ভাগ হবেন নারী। এই স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামে গ্রামে মানুষের বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করবেন। কোন খাবার বেশি খেলে কোন রোগ হয় এসব ব্যাপারে অবগত করবেন।

বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এগুলো চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। দরকার হলে প্রাইভেট খাতে ছেড়ে দিয়ে চালু করতে চাই। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টেরও চেষ্টা করছি।তিনি বলেন, সিলেটে একটি আইটি পার্ক আছে। কিন্তু এটি সচল নেই। আমরা এটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা করছি। যাতে তরুণরা এখানে কাজের সুযোগ পায়। ভকশেনাল সেন্টারগুলো আপডেট করারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এয়ারপোর্ট থেকে আসার সময় দেখছিলাম, বৃষ্টির কারণে পানি জমে গেছে। বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের অনেক কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এছাড়া সব নগরেই ভূগর্ভূস্থ পানির স্থর নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি ধীরে ধীরে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্য আমরা খাল খনন কর্মসূচী নিয়েছি। তাতে বৃষ্টির পানি আমরা ব্যবহার করতে পারবো। জলাবদ্ধতাও নিরসন হবে।

সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে নগরের চাঁদনীঘাটে সিলেট নগরের বন্যা ও জলবদ্ধতা নিরসনে একটি মেঘা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করলাম এটি বাস্তবায়ন হলে সিলেটে আর জলাবদ্ধতা হবে না। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নদীতে প্লাস্টিকের স্থর জমে পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। এই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে প্রতিশ্রুতি আমরা দেশের মানুষকে দিয়েছিলাম, তা আমরা বাস্তবায়ন করা শুরু করেছি। আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু করেছি। শিশুদের খেলাধুলায় আকৃষ্ট নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করেছি।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission