ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‘অটিজম আক্রান্তদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। ছবি: সংগৃহীত

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, দেশের অটিজম আক্রান্ত শিশুদের সু-চিকিৎসা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। একই সাথে অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের উন্নয়ন এবং তাদেরকে সমাজের মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণেও রয়েছে সরকারের একাধিক প্রকল্প।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অটিজম একটি জন্মগত নিউরোলজিক্যাল সমস্যা, তবে এটি কখনো রোগ হিসেবে দেখা যায় না। দেশের অটিজম আক্রান্ত শিশু ও ব্যক্তিদের বিশেষ সক্ষম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে সম্পৃক্ত করার জন্য বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, অটিজম আক্রান্ত শিশুরা স্বাভাবিক জীবনের মতো শিক্ষা ও সেবার অধিকার পায়। তাদের বিশেষ সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষা, ফিজিওথেরাপি, প্যারেন্ট কাউন্সেলিং এবং অন্যান্য সহায়তা কার্যক্রম প্রদান করা হচ্ছে। আমরা চাই তারা শুধু শিক্ষা ও চিকিৎসার সুবিধা পাবে না, বরং অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে দেশের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে অটিজম আক্রান্ত শিশু ও ব্যক্তিদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় তাদের জন্য গ্রান্ট এবং অন্যান্য সহায়তা বাড়াচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আমরা চাই অটিজম আক্রান্তরা তাদের বিশেষ দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে। এতে তারা নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করতে পারবে এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অটিজম আক্রান্তদের জন্য সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই কার্যকরভাবে চালু রয়েছে। তবে শিক্ষার মান আরও বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিশেষ শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যক্রম, এবং নতুন শিক্ষণ কৌশল প্রবর্তন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮০০ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২২০ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার মান উন্নয়ন করা হচ্ছে এবং শিক্ষকরা বিশেষ শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী কার্যকর শিক্ষাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হচ্ছেন।

তিনি জানান, এছাড়াও, অটিজম ও অন্যান্য মানসিক বা শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য (একটিভিটি অফ ডেইলী লিভিং) প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৫০০ জন শিশু ও পরিবারের সদস্যরা এ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা দৈনন্দিন জীবনের মূল কাজগুলো স্বাধীনভাবে করতে শিখছে, যা তাদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ডাক্তারদের জন্যও বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ সালে ৫১ জন ডাক্তার এবং ২০২৪-২৫ সালে ৫৩ জন ডাক্তার অটিজম এবং অন্যান্য মানসিক/শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পরিচর্যা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অটিজম সংক্রান্ত সেবা আরও সুসংগঠিতভাবে প্রদান করা সম্ভব হবে।

অটিজম আক্রান্ত শিশুদের পরিবারগুলোর মানসিক স্বাস্থ্যও সরকারের নজরদারির মধ্যে রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, অটিজম আক্রান্ত শিশুদের পরিবারগুলো প্রায়শই মানসিক চাপের মধ্যে থাকে। তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে মেন্টাল হেলথ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আমরা বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছি, যাতে পরিবারের সদস্যরা কাউন্সেলিং এবং মানসিক সহায়তা পায়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবারগুলো মনে করবে যে তাদের সন্তান স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। এতে তারা সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারবে। সরকারি এই উদ্যোগটি প্রাইভেট খাতের তুলনায় কম খরচে প্রদান করা হচ্ছে, যাতে সর্বসাধারণ এই সেবা গ্রহণে সক্ষম হয়।

সরকার শুধু অটিজম নয়, বিশেষভাবে সক্ষম সকল ব্যক্তির জন্য বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম গ্রহণ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিজিক্যালি ডিজেবল, শ্রবণ প্রতিবন্ধী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও শিক্ষাগত, সেবাগত এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এটি একটি সমন্বিত পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৪টি ‘অটিজম ও ইনডিভিজুয়াল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ কার্যকর রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে ২ লাখ ৬০ হাজার ১৯৬ জন ব্যক্তি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেছে এবং মোট ১২ লাখ ৩৯ হাজর ৮২০টি সেবা প্রদানের রেকর্ড রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এই কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষাগত কার্যক্রম, ফিজিওথেরাপি, পেশাগত প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক কর্মকা- চালু রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, সরকার উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে অটিজম ও অন্যান্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুযোগ বাড়াচ্ছে। ঢাকায় দুটি প্রধান সেন্টার চালু রয়েছে, যেখানে শিশু ও যুবকদের জন্য অকুরপেশিয়াল ডথ, ল্যাঙ্গুয়েজ ডথ, সোশিয়াল কোঅর্ডিনেশন এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কার্যক্রম চালু আছে। এছাড়াও, সহায়ক উপকরণ সরবরাহ এবং পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

সরকারি প্রকল্পগুলোর আওতায় প্রতিবন্ধী শিশুরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছে, যার মধ্যে রয়েছে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, দৈনন্দিন জীবনযাপন দক্ষতা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শুধু শিক্ষিত নয়, বরং সক্ষম ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠুক। এতে তারা দেশের অর্থনীতি ও সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিজেবল স্পোর্টস এবং প্যারাঅলিম্পিক কার্যক্রমকে আরও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় এবং তাদের আত্মবিশ্বাস উন্নত করে। পাশাপাশি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে, অটিজম আক্রান্ত শিশুদের স্বাভাবিক সন্তানের মতো গ্রহণ করতে হবে। কোনো ধরনের কলঙ্ক বা সামাজিক স্টিগমা না তৈরি করতে পরিবার ও সমাজকে সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই অটিজম আক্রান্ত শিশুরা যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, শিক্ষার সুযোগ পায় এবং সমাজের অংশ হয়ে উঠতে পারে। এটি শুধুমাত্র সরকারের নয়, পুরো সমাজের দায়িত্ব।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অটিজম ও অন্যান্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নের জন্য সরকার বিভিন্ন প্রজেক্টও কার্যক্রম চালু রেখেছে। এটি একটি সমন্বিত পরিকল্পনা, যা শিক্ষার মান, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করে। এছাড়াও, পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি দেশবাসীর প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন, অটিজম আক্রান্ত শিশুরা আমাদের সন্তান। তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ দেওয়া এবং সামাজিক কলঙ্ক দূর করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। সরকারের উদ্যোগ এবং সমাজের সমর্থনের মাধ্যমে তারা স্বাধীন, সক্ষম এবং সম্পূর্ণভাবে সমাজের অংশ হয়ে উঠতে পারবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশে মেটার কার্যালয় খোলার আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
বাংলাদেশে মেটার কার্যালয় খোলার আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় দুপুরে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন  প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
মানবিকতার তাগিদেই সীমান্ত খুলে দিয়েছিলো বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী 
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মানবিকতার তাগিদেই বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই সংকটের ভার একা বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। সংকটের উৎপত্তি যেহেতু মিয়ানমারে, এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংকটের স্থায়ী সমাধান, বিচার ও জবাবদিহি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। ২০১৭ সালে সহিংসতার পর সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু মিয়ানমারে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় নতুন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে শিশুদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে তারা রাখাইন রাজ্যে পুনঃএকীভূত হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি এই পরিস্থিতির কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা মানবপাচার, মাদকপাচার, অবৈধ অভিবাসন ও অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। তারেক রহমান বলেন, মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বাড়লেও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমছে। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা চাওয়া হলেও ২০২৬ সালের জন্য সেই আবেদন কমে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার বিকল্প হতে পারে না। অনির্দিষ্টকাল ধরে শুধু বাংলাদেশকেই এ দায়িত্ব বহন করতে বলা যায় না। তিনি জানান, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এখনো গভীরভাবে উদ্বেগজনক। রোহিঙ্গারা জোরপূর্বক নিয়োগ, নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, জোরপূর্বক শ্রমসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি- উভয়ের বিরুদ্ধেই গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগের তথ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত, বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং মানবপাচার, মাদকপাচার ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হলে তাদের নিজভূমিতে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আরটিভি/এআর 
মানবিকতার তাগিদেই সীমান্ত খুলে দিয়েছিলো বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী 
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। সংকটের মূল কারণ ও তার সমাধানে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইন বৈঠকে পাঁচটি প্রস্তাব রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ প্রস্তাবনা তুলেন তিনি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপে যাওয়ার সময় এসেছে। দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির ব্যয় প্রতিদিনই বাড়ছে-শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, কক্সবাজারের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও। বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ এখন বিপুল। দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও হতাশা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবপাচার, অবৈধভাবে অভিবাসী পাচার, মাদকপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ। কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছেন। একটি দেশে অমীমাংসিত থেকে যাওয়া সংকট পুরো অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে। এসময় রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে এই বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটাতে পাঁচটি ক্ষেত্রে কিছু জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব রাখেন প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান।  তার প্রস্তাবনাগুলো হলো:— প্রথমত, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অন্যান্য রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে হবে এবং তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে, যা প্রত্যাবাসনের অনুকূল। দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা ফিরে পান। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে, আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করতে হবে। তাদের উদার আতিথেয়তার কারণে তাদের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। চতুর্থত, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রচেষ্টায় গাম্বিয়ার নেতৃত্বের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও স্বীকার করি, যেখানে ব্যক্তিগত অপরাধের দায় নির্ধারণের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্তব্যবস্থাও কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্তব্যবস্থাগুলোকে অব্যাহত সহায়তা দিতে হবে। গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পঞ্চমত, এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়া মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। আরটিভি/এসআর  
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব
আরও পড়ুন
তারেক রহমানের পজিটিভ রাজনীতি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয় হওয়ার কোন সুযোগ নেই: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
দুর্নীতি-অনিয়মে কোনো ছাড় নয়: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব অটিজম দিবস-২০২৬ উদযাপন করলো আরটিভি