৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী যৌন হয়রানির শিকার: আসক

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ , ০৮:০৮ পিএম


বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী যৌন হয়রানির শিকার: আসক
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী কোনো না কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। এ ছাড়া গত ১০ বছরে দেশে ২ হাজার ১১৩টি যৌন হয়রানি এবং ৯ হাজার ২৯৫টি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসক এসব তথ্য জানিয়েছে। 

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সাভারের বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রধান ক্যাম্পাসে এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোকে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জেন্ডারবান্ধব পরিবেশে রূপান্তরের তাগিদ দেওয়া হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্র ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রেক্ষাপটে জনপরিসরে যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার অবসান’ (ইএসজিবিভি) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে আসক।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সার্বিক সমন্বয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাড়াও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সভায় আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, ২০০৯ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, গৃহসহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন নারীর সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আসকের উপদেষ্টা মাবরুর মোহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি ও সহিংসতা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এম. মাহবুব উল হক মজুমদার বলেন, ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কমিটির মাধ্যমে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। সম্প্রতি যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন লিজা শারমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক বাবা-মায়ের মতো হওয়া উচিত। যৌন হয়রানির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনেক সময় আইনের চেয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যেকোনো ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসন দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির চেষ্টা করে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক ট্রমা মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি টিম নিয়মিত সহায়তা দিচ্ছে।

সভায় ক্যাম্পাসগুলোতে যৌন হয়রানি বন্ধে ‘হোল অব স্কুল’ পদ্ধতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও জবাবদিহি কাঠামো শক্তিশালী করা, অভিযোগ প্রতিরোধ কমিটির সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের চেঞ্জমেকার গ্রুপ গঠন, নারী নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং ক্যাম্পাসে জিরো টলারেন্স সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

এ ছাড়া আগামী দিনের বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি), ওয়েবিনার, অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ, ক্যাম্পেইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সমন্বয় সভাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আরটিভি/এসকেডি

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission