যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ও সুদানবাসীর পাশে বাংলাদেশি সেবা সংস্থা হাফেজ্জী

আরটিভি নিউজ  

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ , ০৪:২৭ পিএম


যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ও সুদানবাসীর পাশে বাংলাদেশি সেবা সংস্থা হাফেজ্জী
ছবি: আরটিভি

গাজা, সুদান, মিশর ও বাংলাদেশ; এই চারটি ভূখণ্ডে একযোগে কোরবানি কাফেলা পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত মানবিক সংগঠন হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ। ঈদুল আযহার এই পবিত্র মৌসুমে বিশ্বের সবচেয়ে সংকটাপন্ন অঞ্চলগুলোর পাশাপাশি দেশেও এখন পর্যন্ত সংগঠনটির পক্ষ থেকে পরিচালিত হয়েছে ৪৪টি গরু, একটি উট, ছয়টিরও বেশি দুম্বা ও খাসি এবং সাতটি ছাগলের কোরবানি কার্যক্রম। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, চলমান এই মানবিক কাফেলায় কোরবানির সংখ্যা পর্যায়ক্রমে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ভূখণ্ডে পশুর মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বহুগুণ ওপরে চলে যাওয়ায় এবার বিকল্প কৌশল গ্রহণ করেছে HCSB। আকাশছোঁয়া দামের কারণে সংগঠনটি প্রায় ১৫ মণ কোরবানির গোশত সংগ্রহ করে হিমায়িত করেছে, যা গাজা ভূখণ্ডের বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মাঝে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে, থাকবে খাদ্য বিতরণের ব্যবস্থাও। জাতিসংঘের OCHA ও UNRWA এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় শাহাদাতবরণকারীর সংখ্যা ৭২ হাজার ৫৯৯ ছাড়িয়েছে এবং আহত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজারের অধিক, যাদের বড় অংশ নারী, শিশু ও বৃদ্ধ।

সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধজনিত মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও HCSB এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সেখানে তিনটি গরু ও তিনটি ছাগল কোরবানি করা হয়েছে। তাকাত ক্যাম্প ও উবাইদ অঞ্চলের নিঃস্ব শরণার্থীদের মাঝে গোশত বিতরণও চলমান রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, সুদানে বর্তমানে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত, ২ কোটি ৪৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে এবং সামগ্রিক প্রাণহানির আনুমানিক সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজারে।

অন্যদিকে, মিশরে আশ্রয় নেওয়া গাজা ও সুদানের শরণার্থী পরিবারগুলোর জন্য সংগঠনটি কোরবানি করেছে চারটি গরু, একটি উট এবং ছয়টি দুম্বা ও খাসি। বাংলাদেশেও চলমান রয়েছে ৩৭টি পূর্ণ গরু ও চারটি ছাগলের কোরবানি কার্যক্রম। এসব কোরবানির গোশত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রতিবন্ধী পরিবার, নওমুসলিম, এতিম শিশু, বিধবা মা এবং সুবিধাবঞ্চিত মক্তবের শিক্ষার্থীদের ঘরে ঘরে। পাশাপাশি গাজা ও সুদানে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, বাস্তুচ্যুতদের জন্য তাবু এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

গাজার ছয়টি স্বনামধন্য হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে HCSB এর মানবিক কার্যক্রমকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ফিলিস্তিন টিভি ইতোমধ্যে সংগঠনটির মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ে সরাসরি প্রতিবেদন প্রচার করেছে। মিশরের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিশর টাইমস’সহ একাধিক আন্তর্জাতিক পত্রিকাও সংগঠনটির কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে।

পাশাপাশি দেশের ভেতরে HCSB প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন, নওমুসলিম পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে মক্তব প্রতিষ্ঠা, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংগঠনটির অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিগত এক বছরে দেশের বিধবা, অসহায় মা-বোন ও সুবিধাবঞ্চিত ভাইদের চিকিৎসা ও স্বাবলম্বীকরণ খাতে এক কোটি টাকারও বেশি সহযোগিতা প্রদান করেছে HCSB।

শুধু প্রশিক্ষণ বা ত্রাণ কার্যক্রমে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি সংগঠনটি। দেশের যে প্রান্তে যেদিন অসহায় মানুষের আর্তনাদ পৌঁছেছে, সেদিনই সেখানে ছুটে গেছে তাদের কর্মীবাহিনী। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও উলামায়ে কেরাম নিয়মিতভাবে সংগঠনটির কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাজার রক্ত, সুদানের ক্ষুধা কিংবা বাংলাদেশের দরিদ্র মায়ের শূন্য পাত্র—কোনোটিই আমরা ভুলিনি, ভুলব না ইনশাআল্লাহ। প্রতিটি দাতা সদস্যের পবিত্র আমানত পূর্ণ আমানতদারিতার সঙ্গে প্রকৃত হকদারের হাতে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission