ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ও সুদানবাসীর পাশে বাংলাদেশি সেবা সংস্থা হাফেজ্জী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
ছবি: আরটিভি

গাজা, সুদান, মিশর ও বাংলাদেশ; এই চারটি ভূখণ্ডে একযোগে কোরবানি কাফেলা পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত মানবিক সংগঠন হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ। ঈদুল আযহার এই পবিত্র মৌসুমে বিশ্বের সবচেয়ে সংকটাপন্ন অঞ্চলগুলোর পাশাপাশি দেশেও এখন পর্যন্ত সংগঠনটির পক্ষ থেকে পরিচালিত হয়েছে ৪৪টি গরু, একটি উট, ছয়টিরও বেশি দুম্বা ও খাসি এবং সাতটি ছাগলের কোরবানি কার্যক্রম। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, চলমান এই মানবিক কাফেলায় কোরবানির সংখ্যা পর্যায়ক্রমে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ভূখণ্ডে পশুর মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বহুগুণ ওপরে চলে যাওয়ায় এবার বিকল্প কৌশল গ্রহণ করেছে HCSB। আকাশছোঁয়া দামের কারণে সংগঠনটি প্রায় ১৫ মণ কোরবানির গোশত সংগ্রহ করে হিমায়িত করেছে, যা গাজা ভূখণ্ডের বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মাঝে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে, থাকবে খাদ্য বিতরণের ব্যবস্থাও। জাতিসংঘের OCHA ও UNRWA এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় শাহাদাতবরণকারীর সংখ্যা ৭২ হাজার ৫৯৯ ছাড়িয়েছে এবং আহত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজারের অধিক, যাদের বড় অংশ নারী, শিশু ও বৃদ্ধ।

সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধজনিত মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও HCSB এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সেখানে তিনটি গরু ও তিনটি ছাগল কোরবানি করা হয়েছে। তাকাত ক্যাম্প ও উবাইদ অঞ্চলের নিঃস্ব শরণার্থীদের মাঝে গোশত বিতরণও চলমান রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, সুদানে বর্তমানে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত, ২ কোটি ৪৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে এবং সামগ্রিক প্রাণহানির আনুমানিক সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজারে।

অন্যদিকে, মিশরে আশ্রয় নেওয়া গাজা ও সুদানের শরণার্থী পরিবারগুলোর জন্য সংগঠনটি কোরবানি করেছে চারটি গরু, একটি উট এবং ছয়টি দুম্বা ও খাসি। বাংলাদেশেও চলমান রয়েছে ৩৭টি পূর্ণ গরু ও চারটি ছাগলের কোরবানি কার্যক্রম। এসব কোরবানির গোশত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রতিবন্ধী পরিবার, নওমুসলিম, এতিম শিশু, বিধবা মা এবং সুবিধাবঞ্চিত মক্তবের শিক্ষার্থীদের ঘরে ঘরে। পাশাপাশি গাজা ও সুদানে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, বাস্তুচ্যুতদের জন্য তাবু এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

গাজার ছয়টি স্বনামধন্য হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে HCSB এর মানবিক কার্যক্রমকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ফিলিস্তিন টিভি ইতোমধ্যে সংগঠনটির মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ে সরাসরি প্রতিবেদন প্রচার করেছে। মিশরের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিশর টাইমস’সহ একাধিক আন্তর্জাতিক পত্রিকাও সংগঠনটির কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে।

পাশাপাশি দেশের ভেতরে HCSB প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন, নওমুসলিম পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে মক্তব প্রতিষ্ঠা, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংগঠনটির অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিগত এক বছরে দেশের বিধবা, অসহায় মা-বোন ও সুবিধাবঞ্চিত ভাইদের চিকিৎসা ও স্বাবলম্বীকরণ খাতে এক কোটি টাকারও বেশি সহযোগিতা প্রদান করেছে HCSB।

শুধু প্রশিক্ষণ বা ত্রাণ কার্যক্রমে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি সংগঠনটি। দেশের যে প্রান্তে যেদিন অসহায় মানুষের আর্তনাদ পৌঁছেছে, সেদিনই সেখানে ছুটে গেছে তাদের কর্মীবাহিনী। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও উলামায়ে কেরাম নিয়মিতভাবে সংগঠনটির কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাজার রক্ত, সুদানের ক্ষুধা কিংবা বাংলাদেশের দরিদ্র মায়ের শূন্য পাত্র—কোনোটিই আমরা ভুলিনি, ভুলব না ইনশাআল্লাহ। প্রতিটি দাতা সদস্যের পবিত্র আমানত পূর্ণ আমানতদারিতার সঙ্গে প্রকৃত হকদারের হাতে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নেপালে ফানটাস্টিক হেব্বি এনার্জির ‘হেব্বি অ্যাডভেঞ্চার টু হিমালয়া’,৩ বিজয়ীর রোমাঞ্চকর অভিযান
অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ফানটাস্টিক হেব্বি এনার্জি বিস্কুটের আয়োজনে শুরু হওয়া ক্যাম্পেইন 'হেব্বি অ্যাডভেঞ্চার টু হিমালয়া' এখন সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নেপালে ফানটাস্টিক হেব্বি এনার্জির ‘হেব্বি অ্যাডভেঞ্চার টু হিমালয়া’,৩ বিজয়ীর রোমাঞ্চকর অভিযান
পূজায় কারা পাচ্ছেন ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি থাকবে এবং ১৭ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে। বুধবার (৭ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিধি-৬ শাখা। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামাং দ্য ডিফারেন্ট মিনিস্ট্রিজ অ্যান্ড ডিভিশনস (শিডিউল ওয়ান অব দ্য রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬) (সংশোধন, ফেব্রুয়ারি ২০২৪)-এর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অংশের ৩৭ নম্বর ক্রমিকের অনুবলে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জরুরি পরিষেবা যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির আওতা বহির্ভূত থাকবে। হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এ ছুটির আওতা বহির্ভূত থাকবে। চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীরা এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরাও এ ছুটির আওতা বর্হিভূত থাকবে। জরুরি কাজে সম্পৃক্ত অফিসগুলো এ ছুটির আওতা বহির্ভূত থাকবে।  ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। বেসরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান/কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। আরটিভি/এসআর
পূজায় কারা পাচ্ছেন ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ
বুধবার (৭ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ
শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার: ড. মঈন খান
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের জন্য কাজ করা মানে দেশের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করা। আজকের শিশুরাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে। 
শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার: ড. মঈন খান
দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল ঠিকানার আওতায় আনতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল ঠিকানার আওতায় আনতে চায় সরকার। প্রত্যেক নাগরিকেরই থাকবে ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ। ডিজিটাল পরিচয় যাচাই শেষে প্রত্যেকে পাবেন একটি নম্বর (ডিজিটাল পরিচিতি)। ডাক অধিদপ্তরের ‘নাগরিক প্রান্তে বিদ্যমান ডাকসেবার সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  চলতি বছরের মার্চে শুরু হওয়া প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যে ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি টাকার বেশি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথমে দেশের পোস্টম্যানদের বিট এলাকা চিহ্নিত করে ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করা হবে। এরপর প্রতিটি বিটের আওতায় থাকা পরিবার বা ডাক পৌঁছানোর স্থানগুলো শনাক্ত করে যুক্ত করা হবে তথ্যভান্ডারে। ধাপে ধাপে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের ঠিকানা এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের। যুক্ত করা হবে ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও। এর মূল লক্ষ্য দেশের কোনো মানুষ যেন ঠিকানার বাইরে না থাকেন। কোনো ব্যক্তির কাছে কোনো বার্তা পাঠাতে হলে তা যেন ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠানো যায় সেটিও এ প্রকল্পের লক্ষ্য। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টম্যানদের নির্দিষ্ট বিট রয়েছে। একজন পোস্টম্যানের আওতায় কয়েকশ পরিবার থাকতে পারে। অনেক এলাকায় বাড়ি বা ভবনের নির্দিষ্ট নম্বর থাকলেও বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ব্যক্তির নাম, বাড়ির নাম বা স্থানীয় পরিচিতির মাধ্যমে ঠিকানা শনাক্ত করা হয়।  ফলে একই ধরনের বা অসম্পূর্ণ ঠিকানার কারণে অনেক সময় ডাক ও অন্য সেবা পৌঁছাতে তৈরি হয় জটিলতা। প্রকল্পের আওতায় প্রথমে এসব বিটকে ডিজিটালভাবে চিহ্নিত করা হবে। এরপর যুক্ত করা হবে প্রতিটি বিটের আওতায় থাকা পরিবার ও ডেলিভারি পয়েন্টের তথ্য। এভাবে ধাপে ধাপে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ঠিকানা কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আরটিভি/এসআর
দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল ঠিকানার আওতায় আনতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
আরও পড়ুন
দক্ষিণ সুদান ও আবেই মিশন এলাকা পরিদর্শন শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান
গাজা ইস্যুতে এবার নেতানিয়াহুকে দুষলেন ট্রাম্পের জামাতা
গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়াল
গাজায় ‍আবারও ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব