মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশকে কোনোভাবেই আলাদা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (৩১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। তার নেতৃত্ব ও আহ্বানেই গোটা জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে।
তিনি আরও বলেন, একাত্তরের সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়া যেভাবে দিশেহারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, ঠিক তেমনি ১৯৭৫ সালের পর তিনি রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সময়ে অনেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সূচনা বিএনপির হাত ধরেই হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সংবাদমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ শহীদ জিয়াউর রহমানই শুরু করেন।
কৃষি ও অর্থনীতিতে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি, উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ প্রবর্তনসহ কৃষি খাতে তার উদ্যোগ দেশে খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটায়। এর ফলে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ কাটিয়ে বাংলাদেশ খাদ্য উদ্বৃত্তের দিকে অগ্রসর হয়।
তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টস শিল্পের ভিত্তি স্থাপন এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির মতো খাতগুলোর সূচনাও তার সময়েই হয়, যা আজ দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।
মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের সততা ও রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও স্বীকার করেছেন। তার মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, তিনি ছিলেন জনগণের হৃদয়ের নেতা।
আরটিভি/ এসকেডি



