তুরস্কের সঙ্গে বিদ্যমান সুসম্পর্ককে পরের ধাপে উন্নীত করার অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘২+২ বৈঠক’ আয়োজনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বৈঠক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বার্তায় বলা হয়েছে, শনিবার (৬ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। সম্পর্ককে পরের ধাপে নেওয়ার অংশ হিসেবে দুই পক্ষ দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘২+২ বৈঠক’ আয়োজনে সম্মত হয়েছে। এর পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বৈঠক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অধীনে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ওই কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বাংলাদেশে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের শেষ কার্যক্রম ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। তবে, আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যৌথ উৎপাদন ও সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে তিনি নিকট ভবিষ্যতে দুই পক্ষের জন্য সুবিধাজনক সময়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানান।
এদিকে, উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এদিন রাতে ঢাকা ত্যাগ করেছেন হাকান ফিদান। ঢাকা ছাড়ার আগে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বিদায়ী বার্তায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হলো এমন দুটি জাতির বন্ধুত্ব, যারা সাধারণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শন করে। আমরা এই বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে থাকব।’
আরটিভি/এসএইচএম



