ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

সরকারের সিদ্ধান্তে নিম্ন আয়ের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের স্বস্তি

বাসস

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করায় নিম্ন আয়ের লাখো মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও শ্রেণি-পেশার গ্রাহকরা।

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ কমাতে গত ৩ জুন গণশুনানির মাধ্যমে সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে খুচরা পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। এর ফলে আবাসিক গ্রাহকদের লাইফলাইন ও প্রথম ধাপ বা শ্রেণির বিদ্যুতের মূল্যহারও পরিবর্তন করা হয়।

পরিবর্তিত হার অনুযায়ী, লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ৬৯ পয়সা বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। একইভাবে প্রথম ধাপের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়।

গাইবান্ধা, ফেনী ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাইফলাইন অর্থাৎ ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা মূলত নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক পরিবারের সদস্য। তাদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে থাকে। অন্যদিকে প্রথম ধাপের, অর্থাৎ ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের মাসিক বিল গড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মূল্য সমন্বয় কার্যকর হলে উভয় শ্রেণির গ্রাহকের বিল বেড়ে যেত।

পরে সরকারের পক্ষ থেকে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে বিইআরসির কাছে এই দুই শ্রেণির গ্রাহকের দাম না বাড়ানোর আবেদন জানায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো)। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মূল্য সমন্বয়ের একদিন পর লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্যহার বহাল রাখে বিইআরসি। ফলে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব থেকে মুক্ত থাকছেন।

এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং দেশের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে রেখেছে সরকার।

তিনি জানান, দাম সমন্বয়ের পরও বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী গ্রামের পল্লি বিদ্যুৎ গ্রাহক মাইদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতি মাসে আমার প্রায় ৩০০ টাকার মতো বিদ্যুৎ বিল আসে। দাম বাড়লে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য অতিরিক্ত খরচ বহন করা কঠিন হতো। আগের মূল্যহার বহাল রাখায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।

আরও পড়ুন

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন টেলিফোনে গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের বাড়িতে কয়েকটি বাতি, ফ্যান, একটি ফ্রিজ ও পানির মোটর রয়েছে। মাসে প্রায় ৫০০ টাকা বিল আসে। দাম বাড়লে বিল আরও বেড়ে যেত। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে আমরা উপকৃত হয়েছি।

যশোরের ঝিকরগাছার বিদ্যুৎ গ্রাহক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, আমাদের মতো সীমিত আয়ের পরিবারের জন্য বিদ্যুতের দাম না বাড়ানো ভালো সিদ্ধান্ত। এতে মাসিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।

লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্যহার বহাল রাখাকে যৌক্তিক বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন।

তিনি বলেন, পুরো চাপ শুধু গ্রাহকদের ওপর দেওয়া ঠিক নয়। নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খাতকে টেকসই করতে সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সচেতনভাবে বিদ্যুতের ব্যবহার এবং সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকরা অতিরিক্ত ব্যয় কিছুটা হলেও কমাতে পারেন।

বিদ্যুতের দাম সমন্বয়কে ‘অপরিহার্য’ উল্লেখ করে ড. ইজাজ হোসেন বলেন, দাম সমন্বয়কে আমি মূলত সমর্থন করি, কারণ এটি অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে মূল্য সমন্বয় হয়নি। তবে দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ তুলে ধরা উচিত ছিল।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সরকারের অবস্থান জানালেন শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সৌদি সরকারের উত্তরের অপেক্ষায় আছে সরকার। সৌদি আরবের সাথে আমাদের মিশন যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। শিগগিরই সৌদি সরকারের পক্ষ  থেকে জবাব পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।  সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এখন পর্যন্ত সৌদি সরকারের কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া গেছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, না, কাজ চলছে। কাজ চলছে, সময় লাগবে, সময় লাগছে। তো আমরা আশা করছি যে, সৌদি সরকারের কাছ থেকে আমরা দ্রুত কিছু খবর পাব। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা। সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য জানতে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সরকার। এর অংশ হিসেবে গত ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট সৌদি আরবের পররাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তথ্য ও বিস্তারিত জানতে চায়। জেদ্দার পররাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি পাঠানোর তিন দিন পর ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। এ সময় একই চিঠি পুনরায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরটিভি/ এসকেডি
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সরকারের অবস্থান জানালেন শামা ওবায়েদ
কোনদিকে যাচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কবে?
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে রাজপথে নেমে এসেছেন পোশাক শ্রমিকরা। গত কয়েকদিন ধরে চলমান এই আন্দোলনে অস্থির হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশ। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। 
কোনদিকে যাচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কবে?
সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারের জরুরি বার্তা
সোমবার (২ নভেম্বর) নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিস্তারিত দিকনির্দেশনা সংবলিত জরুরি বার্তা প্রকাশ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারের জরুরি বার্তা
২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ওই বছর মোট ২৯ দিন ছুটি থাকবে। 
২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন
‘পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরি বেড়ে যাবে’
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কখনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরির ঘটনা আরও বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
‘পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরি বেড়ে যাবে’