রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে সরকারের ব্যাপক কর্মসূচি

বাসস

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬ , ০২:৩২ পিএম


রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে সরকারের ব্যাপক কর্মসূচি
ফাইল ছবি

চলতি বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও বড় পরিসরে উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব শবনম মুস্তারী রিক্তা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়। 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষে গত ৩ মে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সভার কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী, দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের লক্ষ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এই আয়োজনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা প্রশাসনসহ দেশের প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে বিশেষ স্মারক পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার, তথ্য অধিদপ্তর এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরকে দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে দেশব্যাপী বিশেষ প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বলা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

মাঠ প্রশাসনের অংশ হিসেবে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) কাছেও এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

দিবসটি উদযাপনের প্রস্তুতির সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবহন, ধর্ম এবং সমাজকল্যাণসহ বিভিন্ন খাতভিত্তিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে যুক্ত করায় জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ স্কাউটস, বিএনসিসি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদকেও এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে জাতীয় পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণভাবে পালনের লক্ষ্যে দেশজুড়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা, আলোচনা সভা, বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠান এবং গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিবসটির গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে এবং সব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission