অবৈধ অভিবাসন বন্ধ বা কমানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
বুধবার (১০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিন ১৪৭ বিধিতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের আনা এক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমানে যেসব দেশে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, সেখানে আমরা এরইমধ্যে ১২ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে হারিয়েছি। যখনই কোনো মৃত্যু হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডেকে বলেছেন, অবশ্যই যেন আমরা পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করি, খোঁজ-খবর নেই এবং মরদেহগুলো যথাযথভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর নিশ্চিত করি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কাজগুলো করেছে।
অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ইউরোপ রুটে, বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় অনেক বাংলাদেশি দালালচক্রের হাতে পড়েন। কয়েকদিন আগেও আমরা দেখেছি, কিছু বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। এই অবৈধ অভিবাসন বন্ধ বা কমানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করেছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, এই উইংয়ের কাজ হলো অভিবাসন সংক্রান্ত সমস্যা এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করা। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের দোরগোড়ায় পাসপোর্ট সেবা পৌঁছে দিতে দূতাবাসগুলো দূরবর্তী ও বাংলাদেশি অধ্যুষিত শহরগুলোতে কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজন করছে। এছাড়া, জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য সার্বক্ষণিক হটলাইন চালু রয়েছে। কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি বিপদে পড়লে সরাসরি দূতাবাস এবং দূতাবাস প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
অনিয়মিত অভিবাসন বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে আটক বাংলাদেশিদের মুক্তির জন্য নিয়মিত ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করা হচ্ছে। ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ বাংলাদেশিকে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
লেবানন ও ইসরায়েল সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যুদ্ধকবলিত এলাকায় কর্মহীন ও বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়িয়েছে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস। তাদের খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন আইওএমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দূতাবাসগুলো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
দূতাবাসে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, যদি কোনো নির্দিষ্ট দূতাবাসের বিষয়ে তথ্য থাকে, তাহলে আমাদের জানান। আমাদের ৮১টি মিশন রয়েছে। প্রতিটি মিশনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে, তারা যেন প্রবাসীদের সমস্যা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। কোথাও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবো।
অবৈধভাবে ইউরোপগামী বাংলাদেশিদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের তথ্য অনুযায়ী, ইতালি ও লিবিয়া রুটে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি দালালচক্রের মাধ্যমে যান। এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার এবং আইওএমের সঙ্গে কাজ করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত দালালচক্রকে আইনের আওতায় আনা না যাবে, ততক্ষণ এই সমস্যা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।
আরটিভি/টিআর




