২০২৬-’২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে ২ হাজার ২৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত বছর এ খাতে বাজেটের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে দাঁড়িয়েছিল ১ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই প্রস্তাব পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে ২ হাজার ২৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করছি, যা ২০২৫-’২৬ অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা এবং তা সংশোধিত বাজেটে দাঁড়িয়েছিল ১ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাতের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত অভিঘাতে জর্জরিত।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ উদ্দেশ্যে আমাদের সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যেমন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ দশমিক ৫ লাখ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৫ হাজার ৯৬০ হেক্টর ব্লক বাগানে ৪ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার চারা রোপন, ৩ হাজার ৭২৭ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগানে ৩৭ লাখ ২৭ হাজার চারা রোপন, ৪ হাজার হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগানে ১ কোটি ৭৭ লাখ ৭৬ হাজার চারা রোপন এবং বসতবাড়ি বনায়নে ৫৬ লাখ চারা রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি কর্মসূচি’- এর আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নিজ বাসায় বা আঙিনায় ১ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশকে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘ সার্কুলার ফিউচার মডেল’ বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণরোধে আগামী অর্থবছরে বেশকিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। বায়ু দূষণ কমাতে ১৫টি সিএএমএস এবং ১৬টি সি-সিএএমএস এর মাধ্যমে নিয়মিত বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা। যানবাহনের দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএ-এর মাধ্যমে ১০টি আধুনিক ভেহিকেল ইনসপেকশন সেন্টার স্থাপন করা হবে। ইলেকট্রিক বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন গাইডলাইন ও হালনাগাদ বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। রিডিউস, রিইউস, রিসাইকেল (৩ আর) নীতির আওতায় আগামী ৫ বছরে প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের গভীরতা ও ব্যাপ্তি বিবেচনায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অধীনে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।
আরটিভি/ এসকেডি



