মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য করতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষাঋণ ও ব্যাংক ঋণ সুবিধা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বাজেট বক্তৃতায় এই ঘোষণা দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গমনকারী মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিশেষ ব্যাংক ঋণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর অগ্রযাত্রার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের সকল সরকারি মেডিক্যাল কলেজকে আধুনিক, মানসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। বলেও তিনি আরো বলেন, বিশেষভাবে পুরাতন মেডিক্যাল কলেজসমূহের একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ সুবিধাসমূহ আধুনিকায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের জন্য একটি নিরাপদ, উন্নত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
নতুন এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।
আরটিভি/ এসকেডি



