এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন: অর্থমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ  

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ০৪:৫৭ পিএম


এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন: অর্থমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবে জাতীয় বাজেট প্রস্তুতের জন্য প্রায় ছয় মাস সময় পাওয়া যায়। তবে বর্তমান সরকার মাত্র দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে বাজেট প্রস্তুত করেছে। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণ এবং তাদের চাহিদা ও প্রত্যাশাকে বাজেটে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং সীমিত সম্পদের বাস্তবতায় জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে। এবারের বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করা এবং উন্নয়নের মূল ধারার বাইরে থাকা মানুষদের রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসা।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো বাজেট থেকে বঞ্চিত ছিল। জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর দেশের মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সরকার পেয়েছে। ফলে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা এখন অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্য নিয়েই সরকার বাজেট প্রণয়ন করেছে।

আমির খসরু বলেন, বাজেট প্রণয়নের সময় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো শ্রেণি, পেশা, ধর্ম বা গোষ্ঠীকে বাজেটের বাইরে রাখা হয়নি। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সবার জন্য কমবেশি বরাদ্দ, কর্মসূচি এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে দেশের সম্পদ লুটপাট হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়েছে এবং অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সম্পদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট তৈরি করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে অর্থনীতি ছিল কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক। পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক সেই অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে এবারের বাজেটে অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। যারা এতদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে ছিল, তাদের মূলধারায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে বিশ্ব ক্রমেই সুরক্ষাবাদী ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধ ও সংঘাত এখন নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে সরকারের চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে সরকারি ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এগুলো হলো— অর্থের যথাযথ ব্যবহার (ভ্যালু ফর মানি), বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাবর্তন (রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট), কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা।

তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি প্রকল্প ও ব্যয় এই চারটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। অপচয়ভিত্তিক অর্থনীতি নয়, বরং নীতি-নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই সরকারের লক্ষ্য।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission