নেপালের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ০৬:৫২ পিএম


নেপালের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
ছবি: সংগ্রহীত

নেপালের স্পিকার ডোল প্রসাদ আরিয়ালের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত স্পিকারকে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। পরে তিনি প্রেসিডেন্ট অব দ্য জেনারেল অ্যাসেম্বলি (পিজিএ) নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রার্থিতার প্রতি নেপালের সমর্থনের জন্যও স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান।

বুধবার (১৭ জুন) নেপালের স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাণিজ্য, সংযোগ ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের দৃঢ় যোগাযোগের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

তিনি বলেন, উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও নেপাল অনেক অভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি, বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহ ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। তিনি সার্ক (SAARC) ও বিমসটেক (BIMSTEC)-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগের বিষয়টিও উল্লেখ করেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে বাণিজ্য, সংযোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

স্পিকার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অর্জিত উল্লেখযোগ্য সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন-অভিজ্ঞতা নেপালের নিজস্ব উন্নয়নযাত্রায় ফলপ্রসূ অবদান রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, খেলাধুলা (Sports) দুই দেশের জনগণের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলছে। এছাড়া তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ থেকে উদ্ভূত অভিন্ন ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, হিমালয় অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগত ঝুঁকি সমগ্র অঞ্চলের জন্য একটি যৌথ উদ্বেগের বিষয়। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি অধিকতর আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। এছাড়া বাংলাদেশে চিকিৎসাশিক্ষা ও কারিগরি বিষয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও শিক্ষা-সুবিধা প্রদানে বাংলাদেশের অব্যাহত সহায়তারও তিনি প্রশংসা করেন।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নেপালের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্পিকার তার আইনপ্রণয়ন-সংক্রান্ত দায়িত্বের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সুসংহত করতে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।

তিনি দুই দেশের সংসদীয় কমিটিগুলোর মধ্যে বিনিময় কর্মসূচি জোরদার করার আগ্রহও প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, Parliamentary Friendship Group-কে সংসদীয় সহযোগিতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা আরও সুসংহত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission