এবারের বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বলে অভিহিত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এই বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বলে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি কখনো সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। উচ্চাভিলাষ ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়েই এগোতে হবে। এটি কোনো একদিনের চিন্তার ফল নয়; বরং দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন।
আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় বাজেট উপস্থাপনের পর ‘গরিব মারার বাজেট’ কিংবা ‘বড়লোকের বাজেট’ বলে ঢালাও সমালোচনা করা হতো। কিন্তু এবারের বাজেটকে ঘিরে তেমন কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কারণ এই বাজেট গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাজেটের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য দেশজুড়ে খাল ও নদী পুনঃখনন এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার একটি বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর-সুবিধা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সরকার লুটপাট ও অর্থপাচারনির্ভর অর্থনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় এবং প্রস্তাবিত বাজেট সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি বড় পদক্ষেপ।
আরটিভি/এআর



