আইনজীবীদের ফি বাড়ানো হবে: সংসদে আইনমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

রোববার, ২১ জুন ২০২৬ , ০৭:০২ পিএম


আইনজীবীদের ফি বাড়ানো হবে: সংসদে আইনমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকারের নির্ধারিত ফি কম হওয়ায় অনেক সময় দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজীবীরা লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী হন না। এর পাশাপাশি মামলা ফাইলিং, কোর্ট ফি কিংবা দলিলের জাবেদা নকল সংগ্রহের মতো প্রাথমিক আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য সরকারিভাবে কোনো অগ্রিম বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় আইনজীবীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়। আইনজীবীদের এই বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনা করে সরকার ইতোমধ্যে প্যানেল আইনজীবীদের ফি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে এবং এই ফি আরও যৌক্তিকভাবে বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, দেশের দরিদ্র, অসচ্ছল ও নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার পেতে অসমর্থ জনগণকে আইনি সহায়তা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) সেবা দিতে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থাকে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর-এ উন্নীত করেছে সরকার।

রোববার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১১তম দিনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক (আইন ও বিচার বিভাগ) মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানান।
 
গত ৯ এপ্রিল সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬ পাস করার মাধ্যমে এই রূপান্তর ঘটানো হয়েছে। এর ফলে ঢাকার বাইরে অধিদপ্তরের শাখা কার্যালয় স্থাপন এবং মহানগর থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত আইনি সেবা সম্প্রসারণের একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে এই অধিদপ্তরের আওতায় জনবল কাঠামো সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।

সংসদ সদস্যের প্রশ্নে সরকারি খরচে আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে প্রচারণার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্যানেল আইনজীবীদের কম ফি এবং এনজিওগুলোর সঙ্গে ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশনের সুনির্দিষ্ট বাধাগুলোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন

তৃণমূলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে এই সেবা পৌঁছে দিতে এবং সচেতনতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকার ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে ডিজিটাল লিগ্যাল এইড প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৩০০টি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মোবাইল অ্যাপ ও আধুনিক অনলাইন পোর্টাল চালু এবং ১৬৬৯৯ টোল-ফ্রি লিগ্যাল এইড হেল্পলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর বাইরেও তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত উঠান বৈঠক, গণশুনানি, পথনাটক, সেমিনার আয়োজন, লিফলেট বিতরণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশব্যাপী জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন করা হচ্ছে।

সরকারি লিগ্যাল এইড সেবার সঙ্গে বেসরকারি এনজিওগুলোর ডিজিটাল সমন্বয় ও ইন্টিগ্রেশনের ক্ষেত্রে কিছু কারিগরি ও আইনি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর কার্যপদ্ধতি, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিতার কাঠামো ভিন্ন হওয়ার কারণে এই সমন্বয় করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে একটি সমন্বিত ডেটা-শেয়ারিং নীতিমালার অভাব, পৃথক কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং বিচারপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখানে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করে একটি নিরাপদ, সমন্বিত ও কার্যকর ডিজিটাল লিগ্যাল এইড ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এজন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি এবং বেসরকারি এনজিও ও অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission