মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে ঢাকা ও কুয়ালালামপুর

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ , ০৬:০৫ পিএম


মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে ঢাকা ও কুয়ালালামপুর
দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। ছবি : পিএমও

বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখে একটি 'পারস্পরিক কল্যাণকর, ব্যাপক ও দূরদর্শী' চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে ২০২৭ সালে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত করার আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।

সোমবার (২২ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দুই দেশের মধ্যে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-সংক্রান্ত আলোচনা শুরুর ব্যাপারে হওয়া অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের গুরুত্ব স্বীকার করে বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হলো বাংলাদেশ।

তারা অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার এবং দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজতর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল (জেবিসি) প্রতিষ্ঠার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এটি দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সক্রিয় সহযোগিতা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণে কাঠামোগত সংলাপ ও মতবিনিময়ের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরে দুই নেতা টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো (যেমন: সড়ক, সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার), বন্দর ও লজিস্টিকস, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাতে অধিকতর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

729754738_1600345164780378_1028211462123899803_n
মালয়েশিয়ায় আনোয়ার ইব্রাহীম ও তারেক রহমানের সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত

তারা বিনিয়োগ সহায়তা, কারিগরি সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল উন্নয়ন, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে উভয় দেশের সরকারি সংস্থা, বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা, শিল্পখাত ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এর মাধ্যমে শিল্পখাতের উন্নয়ন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে অংশগ্রহণ জোরদার এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

দুই নেতা বৈশ্বিক ইসলামী অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিষয়টি স্বীকার করেন। হালাল ইকোসিস্টেম উন্নয়নে মালয়েশিয়ার দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি দিয়ে তারা বাংলাদেশের হালাল খাতের উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হন।

উভয় পক্ষ হালাল ইকোসিস্টেম বিষয়ে সহযোগিতা সংক্রান্ত নোট বিনিময়কে স্বাগত জানান এবং মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (জাকিম) ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চলমান সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

এছাড়া হালাল সনদ, নিয়ন্ত্রক কাঠামো উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দুই দেশ।

আরও পড়ুন

শ্রম সহযোগিতা

মালয়েশিয়ার বর্তমান বৈদেশিক শ্রমিক নীতির আলোকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশই স্বীকার করেছে যে নতুন বিদেশি কর্মীদের কোটার অনুমোদন বর্তমানে নিয়োগকর্তার যাচাইকৃত প্রয়োজনীয়তা এবং খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ সীমার ওপর ভিত্তি করে কঠোরভাবে কেস-বাই-কেস (প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে) মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, অনুমোদিত এ ধরনের যেকোনো কোটার ক্ষেত্রে উভয় দেশই কেবল নির্ভরযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, ন্যায্য, বৈষম্যহীন এবং প্রতিযোগিতামূলক নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের "অব্যাহত, নিরাপদ এবং পারস্পরিক কল্যাণকর" অভিবাসন নিশ্চিত করতে দুই দেশই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজে) বৈঠক আহ্বান করতে সম্মত হয়েছে। এই বৈঠকে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মূল্যায়ন এবং উভয় দেশের বর্তমান প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন ও হালনাগাদ সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের ভিত্তি স্থাপনের ওপর আলোকপাত করা হবে।

কর্মী নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশের দেওয়া প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানিয়েছে মালয়েশিয়া। দুই প্রধানমন্ত্রী জনগণের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে মালয়েশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানকে স্বাগত জানান।

তারা উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পারস্পরিক বিনিময় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

729754736_1600345271447034_8238241372037278392_n
ছবি: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়

শিক্ষা ও পর্যটন সহযোগিতা

মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, শিক্ষাগত বিনিময় ও আর্থ-সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নে তাদের ইতিবাচক অবদান রাখার পাশাপাশি দেশে ফিরে আসার পর তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতার মূল্য বিবেচনায় নিয়ে দুই নেতা শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছেন।

এ সহযোগিতার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়-থেকে-বিশ্ববিদ্যালয় (ইউনিভার্সিটি-টু-ইউনিভার্সিটি) অংশীদারত্ব, যৌথ গবেষণা কর্মসূচি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের (টিভিইটি) ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

উভয় পক্ষ পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা, যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি এবং নমনীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছে।

দুই নেতা শ্রমবাজারের চাহিদা এবং উভয় দেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর সঙ্গে শিক্ষাক্রমের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে স্নাতকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

মালয়েশিয়ার 'ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬' (ভিএম২০২৬) এবং 'মালয়েশিয়া ইয়ার অব মেডিকেল ট্যুরিজম ২০২৬' (এমওয়াইএমটি২০২৬) প্রচারণাকে সামনে রেখে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপারে তারা উভয়েই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মালয়েশিয়া বাংলাদেশি পর্যটকদের আন্তরিক অভ্যর্থনা জানায় এবং দুই দেশের মধ্যে পর্যটন বিষয়ে প্রচার ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির বিষয়ে তারা একমত হন।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission