বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে নদ-নদীর পানি, বন্যার আশঙ্কা

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ , ১১:১২ এএম


বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে নদ-নদীর পানি, বন্যার আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদনদীর পানি বাড়ছে। কোথাও দেখা দিয়েছে নদীভাঙন, কোথাও জলাবদ্ধতা। সুনামগঞ্জ, গাইবান্ধা ও কক্সবাজারের টেকনাফে জনজীবনে এর প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি।

উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জের নদী ও হাওরগুলোতে পানি বাড়ছে। তবে গত রোববারের চেয়ে ঢলের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক থেকেও পানি নেমে গেছে।

সোমবার (২২ জুন) পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ১৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার নিচে। তবে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। 

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি হলে নদী ও হাওরে পানি বাড়বে। কোথাও কোথাও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, তবে বড় ধরনের বন্যার শঙ্কা নেই।

এদিকে তাহিরপুরের বড়দল পুরানহাটি এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে খালের পাড় ভেঙে ঘর ধসে রুবেল মিয়া (৩০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

rain_6

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালের তীব্র স্রোতে পাড় ভেঙে পাশের একটি ঘর ধসে পড়ে। পরিবারের অন্য সদস্যরা বের হতে পারলেও ঘরের ভেতরে বাঁধা অবস্থায় থাকা রুবেল মিয়া বের হতে পারেননি। প্রায় সাত ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বিকেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি চর এলাকায় দেড় শতাধিক বসতভিটা ও চার শতাধিক একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে ফেলা জিও ব্যাগ তিস্তার স্রোতে ভেসে গেছে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলো ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি উদ্যোগে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হলেও তা ভাঙন রোধে কার্যকর হচ্ছে না। স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন চরবাসী।

আরও পড়ুন

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য বলছে, তিস্তার চরাঞ্চল বর্তমানে কৃষির সম্ভাবনাময় এলাকা হলেও প্রতিবছর ভাঙনে শত শত হেক্টর কৃষিজমি নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষকের উৎপাদন ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলার কাজ চলছে। তবে নদী খনন, ড্রেজিং ও নদীশাসন ছাড়া স্থায়ীভাবে তিস্তার ভাঙন রোধ করা কঠিন।

এদিকে তিস্তার পানি বেড়ে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় নৌকাই এখন মানুষের একমাত্র ভরসা।

কক্সবাজারের টেকনাফে দুই-তিন দিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, হ্নীলা, সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া, হোয়াইক্যং, শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফসলি জমি ও চিংড়ি ঘেরও ক্ষতি হয়েছে।

image

গত সোমবার সকালে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে উত্তাল সাগরে শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়ার একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। তবে ট্রলারের মাঝিমাল্লারা সাঁতরে নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ ও জালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ আহমেদ বলেন, টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ বলেন, ভারী বর্ষণে একটি নির্মাণাধীন সেতুর অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে।

আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানে বৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী কয়েক দিন নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বন্যার শঙ্কা না থাকলেও স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি অব্যাহত থাকবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission