‘তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে সম্ভাব্যতা জরিপ দ্রুত শেষ হব ’

বাসস

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬ , ০৮:৩৯ পিএম


‘তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে সম্ভাব্যতা জরিপ শেষ হবে দ্রুত’
ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে ‘খুব দ্রুত সম্ভ্যবতা জরিপ শেষ করা হবে’ বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো.শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

চীনে সরকারি সফর শেষে বেইজিং ত্যাগের আগে তিনি গণমাধ্যমের কাছে সফরের বিষয়ে আলোপকালে এই কথা জানান।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, তিস্তায় একটা ফিজিবিলিটি স্টাডি’র ব্যাপারে চীন সম্মত হয়েছে। আমরা যৌথভাবে স্টাডিটা কমপ্লিট করব। সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য যে সকল নদী রয়েছে সেগুলোর জন্য আমরা তাদের থেকে সহযোগিতা চেয়েছি, অনেকগুলা নদীর সঙ্গে তাদের যে সম্পৃক্ততা সেগুলোও আমরা এডজাস্ট করব।

মন্ত্রী বলেন, এর পাশাপাশি তিস্তার ব্যাপারে আমাদেরকে চীন যে সহযোগিতা দেবে এর ভিত্তিতে আমরা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেব। খুব শীঘ্রই তিস্তার যে পরিকল্পনা এই পরিকল্পনাটা আমরা জনগণের দোরগৌড়ায় পৌঁছে দেবো। সেটার জন্য ইনশাআল্লাহ এই বাজেটেই যেন আমরা কাজ করতে পারি সেই দিকে আমরা বিশেষভাবে নজর দিয়েছি।’

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের কথা উল্লেখ করে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তিস্তার ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কয়েকবার আলোচনা করেছেন। ইভেন চীনের প্রেসিডেন্টের সামনে, চীনের প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিস্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, চীনের সাইডে সেখানকার ওয়াটার রিসোর্স মিনিস্টার সহ আমাদের  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অন্যান্য মন্ত্রী এবং উপদেষ্টামন্ডলী ছিলেন। সেখানে ডেলিগেটস যারা ছিলেন, সবার মধ্যে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, তিস্তার জন্য আমাদের যে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা-চাওয়া, তিস্তা অববাহিকায় যেখানে আমাদের হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ সেখানে দীর্ঘদিন থেকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এর থেকে উত্তরণে আমাদেরকে একটা বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া খুব জরুরি। এ জন্য একটা টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্স প্রয়োজন। সেখানে একটা ফিজিবিলিটি স্টাডি ব্যাপারে তারা (চীন) সম্মত হয়েছে।

আরও পড়ুন

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এই সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় দুইবার চীনে এসেছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাতবার চীন সফর করেন। এর মধ্য দিয়ে সম্পর্কটা আরো বেশি গভীর হয়েছিল। ফলে চায়নার সঙ্গে বাংলাদেশের যে একটা ধারাবাহিক উন্নত সম্পর্ক, এটা তারা ফিল করে আমরাও সেটাকে অত্যন্ত অনার করি।

সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরে চীন সফর করেন। চীনের চার দিনের সফরের মধ্যে দুইদিন প্রধানমন্ত্রী চীনের দালিয়ান নগরীতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে ছিলেন। এরপর বুধবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিং আসেন।

বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এর সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক এবং পরে একান্ত বৈঠক করেন। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রী লি গোওইং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করেছেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী চীনে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সাথে সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকগুলো সবই হয়েছে চীনে ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’ এ।

বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো.শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তিনজন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহাদী আমিন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission