ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

কৃষি কল সেন্টারে এক বছরে ৯২ হাজারের বেশি ফোনকল, বাড়ছে কৃষকদের আস্থা

বাসস

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
কৃষি কল সেন্টার : ছবি সংগৃহীত

কৃষি কল সেন্টার থেকে এক বছরে ৯২ হাজারের বেশি ফোনকলে সেবা নিয়েছেন কৃষকরা। চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নের খলিশাডুলী গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম হঠাৎ দেখেন, তার ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিশেহারা হয়ে তিনি সরকারের কৃষি কল সেন্টারের ১৬১২৩ নম্বরে ফোন করেন। সেখান থেকে কৃষিবিদদের পরামর্শ নিয়ে ক্ষেতে তা প্রয়োগ করেন। এতে সমস্যার সমাধান হয়।

একইভাবে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক সাদ্দাম হোসেনও ফসলের সমস্যা নিয়ে কৃষি কল সেন্টারে ফোন করেন। প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়ে তিনিও উপকৃত হন।

জাহাঙ্গীর বা সাদ্দামই নন, দেশের হাজারো কৃষক কৃষিসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এখন নির্ভর করছেন সরকারের কৃষি কল সেন্টারের ওপর।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে কল সেন্টারে মোট ৯২ হাজার ৯৪টি ফোনকল ধরা হয়েছে। কৃষিখাতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবার প্রতি কৃষকদের ক্রমবর্ধমান আস্থারই প্রতিফলন এটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসেই সর্বোচ্চ ১০ হাজার ১৪১টি কল গ্রহণ করা হয়। মে মাসে ৯ হাজার ৯০৩টি এবং জুনে ৮ হাজার ৫৭৬টি কল আসে। বছরের শুরুতে কলের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। জানুয়ারিতে সর্বনিম্ন ৪ হাজার ৯২৬টি, ফেব্রুয়ারিতে ৫ হাজার ৩১৫টি এবং মার্চে ৬ হাজার ৫৭১টি কল গ্রহণ করা হয়। পরে বোরো ধান কাটার মৌসুম ও কৃষি কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় কলের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ৮ হাজার ৪০টি, আগস্টে ৮ হাজার ৮৯টি, সেপ্টেম্বরে ৮ হাজার ৪১৬টি, অক্টোবরে ৭ হাজার ৪০৯টি, নভেম্বরে ৭ হাজার ৯৮৬টি এবং ডিসেম্বরে ৬ হাজার ৭২২টি কল গ্রহণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ১৬১২৩ নম্বরে পরিচালিত কৃষি কল সেন্টার দেশের কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম। এখানে কৃষকরা সরাসরি কৃষিবিদদের সঙ্গে কথা বলে ফসল উৎপাদন, রোগবালাই দমন, সার ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে তাৎক্ষণিক পরামর্শ পাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত এ সেবা বিশেষ করে গ্রামীণ কৃষকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তথ্যভিত্তিক সেবার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

এছাড়া ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণার অংশ হিসেবে কৃষি খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মোবাইল ফোনভিত্তিক সেবা, কৃষি অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও কল সেন্টারের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে দ্রুত ও সহজে তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি কল সেন্টারে কল সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সেবা চালুর সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে এটি কৃষকদের সচেতনতা এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিরও প্রতিফলন।

আরও পড়ুন

কৃষি তথ্য সার্ভিসের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা শামীম হোসেন বলেন, কৃষি কল সেন্টার বর্তমানে দেশের কৃষকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর তথ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কলের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ সেবার প্রতি কৃষকদের আস্থার প্রমাণ।

ভবিষ্যতে এ সেবা আরও সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরাও সহজে এর সুফল পান বলেন তথ্য কর্মকর্তা শামীম।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক মো. মসীহুর রহমান বলেন, কৃষি কল সেন্টার ইতোমধ্যে দেশের কৃষকদের জন্য সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে। প্রযুক্তিনির্ভর এ সেবার মাধ্যমে কৃষকরা দ্রুত সঠিক পরামর্শ পাচ্ছেন, যা উৎপাদন বৃদ্ধি ও ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমরা কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবার মান আরও উন্নত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, কৃষি খাতকে আরও আধুনিক, টেকসই ও উৎপাদনমুখী করতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এটি কৃষকদের ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, রোগবালাই দমন এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষি সেবা পৌঁছে দিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে দেশের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকায় দ্রুত ও সমন্বিতভাবে তথ্য পৌঁছে দিতে কৃষি কল সেন্টার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

মহাপরিচালক জানান, ভবিষ্যতে কৃষি কল সেন্টারের সেবা সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরাও আরও সহজে ও দ্রুত মানসম্মত কৃষি পরামর্শ পাবেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এ উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হার্ট সার্জারি চালু করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) হার্ট সার্জারি কার্যক্রম চালুর জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৬ সালে এ হাসপাতালে হার্ট সার্জারি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তবে সরকার পরিবর্তনের কারণে তাঁর সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। মরহুম প্রধানমন্ত্রীর সেই অসমাপ্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ হার্ট সার্জারি কার্যক্রম চালু করবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অডিটোরিয়ামে কলেজটির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ  সুরাইয়া জেরিন রনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালটিতে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩৭টি ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই ডায়ালাইসিস সেবার সক্ষমতা বাড়িয়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এছাড়া নেফ্রোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে একটি মাল্টি-হেড মাইক্রোস্কোপ সরবরাহ এবং হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা আরো ২০টি বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। সাখাওয়াত হোসেন  বলেন, বগুড়া পুরো উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল।  এ কারণে এখানে ক্যানসার ও লিভারসহ জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাসপাতালের চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি  বলেন, দেশের বড় বড় হাসপাতালগুলোতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫টি হাসপাতালে এই সেবা চালু হয়েছে। বগুড়াসহ যেসব হাসপাতালে এ ব্যবস্থা নেই, সেগুলোকেও পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদের বিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।  আরটিভি/এসআর  
শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হার্ট সার্জারি চালু করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জার্মানি যাওয়ার বড় সুযোগ! ফ্রিতে ভাষা শিক্ষা দিচ্ছে সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
বর্তমান সময় অনেকেরই জার্মানি যাওয়ার আগ্রহ দেখা যায়। কিন্তু দেশটির ভাষা জানা না থাকার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ যেন অধরায় থেকে যায়। কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জার্মান ভাষা শেখারও চেষ্টা করেন। কিন্তু ভাষা শেখা ব্যয়বহুল হওয়ায় সবার সম্ভব হয় না তা। এবার সেসব প্রার্থীদের জন্য এল বড় সুখবর।
জার্মানি যাওয়ার বড় সুযোগ! ফ্রিতে ভাষা শিক্ষা দিচ্ছে সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে 
পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিকল্পের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ায় দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে 
গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়া, এ শিল্পের প্রতি বিএনপির দরদ বেশি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান। এ শিল্পের প্রতি তাই বিএনপির দরদ সবচেয়ে বেশি। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ শিল্পের উন্নয়নে বিএনপি সবসময় আন্তরিক। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজেএ) নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার শুরুতে পোশাক শিল্পের সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার পোশাক শ্রমিকদের দাবির প্রতি আন্তরিক। তাই দ্রুততম সময়ে কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করে দিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ফটোসাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। এটি শুধু আর্থিক সহায়তার বিষয় নয়, বরং তাদের অবদানের স্বীকৃতি, সম্মান ও মর্যাদার বিষয়। বিপিজেএর নেতাদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। বিপিজেএর কার্যালয় সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংগঠনটির জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে যে ভবন বা জায়গা নিয়ে জটিলতা রয়েছে, সেটির প্রকৃত অবস্থা ও আইনি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি। সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ আইন নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা চলছে। সবার মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাড়াহুড়ো করতে চায় না। তিনি বলেন, আইনটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা চাই, আইনটি যেন প্রকৃত অর্থেই সবাইকে সুরক্ষা দিতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষ করেই চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে চাই। মতবিনিময় সভায় বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসিন ফটোসাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ফটোসাংবাদিকদের একটি বড় অংশ নানা ধরনের প্রতিকূলতা, নির্যাতন ও পেশাগত বাধার মধ্যেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদচিত্র ধারণ করেছেন।    বিপিজেএ সভাপতি বলেন, ফটোসাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, দেশের ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংরক্ষণের মাধ্যম। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষ্য বহন করে তাদের তোলা ছবি। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফটোসাংবাদিকরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করে দেশ-বিদেশে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, সংগঠনটির স্থায়ী কার্যালয় নিশ্চিত করা হলে ফটোসাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সভা-সেমিনার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে। বিপিজেএর সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার বলেন, ফটোসাংবাদিকরা গত দেড় দশকে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নির্যাতন, হামলা, মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা রাজপথে থেকে সংবাদচিত্র ধারণ করেছেন। তাদের তোলা ছবি দেশের মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও আন্দোলনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে নুরুদ্দিন আহমেদ, এবিএম রফিকুর রহমান, নাসিম সিকদার এবং দেলোয়ার হোসেন বাদল বক্তব্য রাখেন। এ সময় বিপিজেএর নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়া, এ শিল্পের প্রতি বিএনপির দরদ বেশি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
ন্যানো ইউরিয়া বাঁচাবে ৯৫ শতাংশ উৎপাদন খরচ ও হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা
দেশে উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়া সারের পেটেন্ট প্রাপ্তি টেকসই কৃষি ও গ্রিন টেকনোলজির ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব ‘গেম-চেঞ্জার’ যুগের সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে।
ন্যানো ইউরিয়া বাঁচাবে ৯৫ শতাংশ উৎপাদন খরচ ও হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা
আরও পড়ুন
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার ‘আগাম বার্তা’ পাবেন কৃষকরা
নিষিদ্ধ কৃষক লীগের আরও এক নেত্রী ধরা
চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ ‘কৃষক কার্ড’ দেবে সরকার
ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের