‘বাংলাদেশের সঙ্গে সমতাভিত্তিক সম্পর্ক গড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র’

আরটিভি নিউজ

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬ , ১২:০৪ পিএম


‘বাংলাদেশের সঙ্গে সমতাভিত্তিক সম্পর্ক গড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র’
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একতরফা বাণিজ্য সুবিধা বা অনুদানের পরিবর্তে এখন বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি সমতাভিত্তিক সম্পর্ক গড়তে চায় ওয়াশিংটন। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র একাই চলবে। পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে একটি প্রকৃত অংশীদারি গড়তে চায় তার দেশ। দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তিকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের গতিশীল বেসরকারি খাত এবং তরুণ জনশক্তির কারণে দেশটি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে বলে মনে করেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তবে এই অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, দুর্নীতি মোকাবিলা, প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করা এবং আরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন তিনি। জ্বালানি খাতে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন বর্তমান সরকারকে ‘ব্যবসাবান্ধব’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত সহায়তা, নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশ এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠী এবং প্রসারিত দেশীয় বাজার বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় আকর্ষণ। মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ, কর প্রণোদনা, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কের সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে আরও মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তাদের চেম্বার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। টেলিযোগাযোগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, তৈরি পোশাক, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং এভিয়েশনের মতো খাতে বিনিয়োগ ও জ্ঞান হস্তান্তরে তারা সহায়তা করেছে। বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অ্যামচ্যাম সর্বদা প্রথম যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান। অ্যামচ্যামের নির্বাহী কমিটিতে মার্কিন দূতাবাসের বাণিজ্যিক উপদেষ্টাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ব্যবসায়িক সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নিতে সহায়তা করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অ্যামচ্যামের সহসভাপতি মুহাম্মদ আলাউদ্দীন আহমাদ বলেন, একটি প্রতিযোগিতামূলক ও ভবিষ্যৎমুখী বাংলাদেশ গড়তে তাদের সংগঠন দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীর এই ক্ষণে অংশীদারি, বন্ধুত্ব ও যৌথ সাফল্যের নতুন অধ্যায়ের দিকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission