অনলাইন জুয়ার ফাঁদে গৃহিণীরা, পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকা

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৯:১৫ পিএম


অনলাইন জুয়ার ফাঁদে গৃহিণীরা, পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকা
প্রতীকী ছবি (এআই তৈরি)

দেশে ভয়াবহ মাত্রায় বেড়েছে অনলাইন জুয়ার লেনদেন। এই অবৈধ লেনদেন ৫ বছরে বেড়েছে ২১ গুণ। সম্পৃক্ততায় শীর্ষে রয়েছে চাকরিজীবী ও গৃহিণীরা।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তথ্যেও উঠে এসেছে এমনই ভয়ংকর তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। এছাড়াও এই অনৈতিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন দেশের জেলে ও কৃষকরাও। তাদের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা।

অনলাইন জুয়া বর্তমানে মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে অনেকেই আর্থিকভাবে দেউলিয়া ও নিঃস্ব হচ্ছে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, পারিবারিক সহিংসতা এমনকি আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা যায়, সাইবার জুয়া কোম্পানিগুলো মোবাইল ব্যাংকিংসহ ব্যাংক, ফাইন্যান্সিয়াল হাউস, পেমেন্ট গেটওয়ে, এমএফএস/পিএসও/পিএসপি ইত্যাদির সঙ্গে ইন্টিগ্রেটেড। মাসের পর মাস নির্দিষ্ট কিছু পুলের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টে ইরেগুলার, একমুখী এবং অস্বাভাবিক ট্রানজেকশন হচ্ছে। একটি পুল নম্বরে টাকা গিয়ে তা নির্দিষ্ট নম্বরে ক্যাশ আউট হয়ে বাইরে পাচার হচ্ছে। কিন্তু তারপরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায় না।

বিটিআরসির পক্ষ থেকে দৃশ্যমান বেটিং (জুয়া) সাইট বন্ধের কথা বলা হলেও এখনও প্রকাশ্যে বেশ কিছু বহুল ব্যবহৃত বেটিং সাইট সহজেই পাওয়া যায়। এর মধ্যে ওয়ানএক্সবেট, মেলবেট, লিনবেট, সেফিয়ারবেট, বেট অন গেম, মেগাপারি, পিন-আপ বেট, বাজিওকে, ফেয়ারপ্লে ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। নিম্ন আয়ের মানুষের একটি অংশ এখন দিনের বড় সময় অনলাইনে বাজি ধরতে ব্যস্ত থাকে।

আরও পড়ুন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট শাখার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বেটিং ও পর্ন সাইটগুলো স্ব-উদ্যোগেই বিটিআরসি থেকে বন্ধ করা হয়। কিন্তু এসব সাইট সংশ্লিষ্টরা নাম পরিবর্তন করে বা সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে আবার ফিরে আসে। কেউ কেউ নাম পরিবর্তনসহ নানা কৌশলে আবারও ফিরে আসে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, অনলাইন বেটিং সাইট বিষয়ে সিআইডির বিশেষায়িত ইউনিট নিয়মিত মনিটরিং করছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এসব সাইটের বিষয়ে বিটিআরসিকে অবহিত করা হয়। তিনি নাগরিকদের অনলাইন জুয়া ও বেটিং থেকে বিরত থাকতে এবং পরিবার, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার আহ্বান জানান।

সম্প্রতি অন্যান্য অপরাধের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করার কথা বলেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। গত মে মাস থেকে এ অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিপণ্য সহজলভ্য হওয়া ও দুর্বল নজরদারির কারণেই এর অপব্যবহার বেড়েছে দেশজুড়ে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission