‘৫২ থেকে ৫২ হাজার আশ্রয় দিতে চাই কিন্তু সামর্থ্য নেই’(ভিডিও)

মিথুন চৌধুরী ও গাজী আনিস

বুধবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮ , ০৭:৫৪ পিএম


‘৫২ থেকে ৫২ হাজার আশ্রয় দিতে চাই কিন্তু সামর্থ্য নেই’(ভিডিও)

যদি প্রশ্ন করা হয় সবচেয়ে মনিব ভক্ত কে? নির্দ্বিধায় সবাই বলবে কুকুর একমাত্র প্রাণী, যেকোনো রকম স্বার্থ ছাড়াই মনিবের জন্য এগিয়ে আসে। কিন্তু কুকুকের বিপদে কি কেউ এগিয়ে আসে? পথে ঘাটে যেখানে সেখানে কুকুর পরে থাকে অবহেলায়। আবার নানা দুর্ঘটনায় পরে আহত হয়ে পঙ্গু জীবন যাপন করে। তবে এসব পঙ্গু, অসুস্থ, অসহায় কুকুর বিড়ালের বিপদে সব সময় পাশে থেকে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন পশু প্রেমিক আফজাল খান ওরফে রবিনহুড।

বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনায় আহত বা গুরুতর অসুস্থ কুকুর ও বিড়ালকে সহায়তা দিতে রবিনহুড ছুটে যান দেশের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। তাদের উদ্ধার করে বাড়ির ছাদের আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা দেন। সেখানে চলে তাদের চিকিৎসা ও সেবা শুশ্রুষা।   

রাজধানীর খিলগাঁও তিলপাপাড়া ৯ নং রোডের ১৯৫/এ নং বাড়িটি আফজাল খান ওরফে রবিনহুডের। এই বাসার ছাদে তার আশ্রয়কেন্দ্রে এরকম আহত অসুস্থ ৫২টি কুকুর ও বিড়াল রয়েছে। এদের একেকটির ধরন বুঝে নামও দিয়েছেন তিনি। বাহুবলি, সুলতান, টাইগার, কিষি, পিংকি রিও। রবিনহুড শোনালেন তাদের উদ্ধার ও অসুস্থতার করুণ কাহিনী।  

বিজ্ঞাপন

নদী নামের মায়াবী চেহারার লাল ডোরাকাটা বিড়ালটির কাহিনী শুনলে যেকেউ চমকে উঠবেন। কসাইয়ের ফেলে দেয়া মাংস মজা করে খাওয়ার জন্য যখন দোকানের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিল, তখনই কসাইদ তার দুষ্টু বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে বিড়ালের পিঠে আঘাত করে। এতে তার পিঠে বড় একটা ক্ষত হয়। তার এই ক্ষত দেখে একজন প্রত্যক্ষদর্শী রবিনহুডের ফেসবুক গ্রুপে সাহায্য চায়। তখনই রবিনহুড উদ্ধার করে নিজের কাছে নিয়ে আসেন।

বিজ্ঞাপন

আবার রামপুরায় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে পা হরিয়ে সুলতান নামের কুকুরটি যখন কাতরাচ্ছিল তখন রবিনহুড তাকে উদ্ধার করে। কিন্তু পরবর্তীতে চিকিৎসা করে সুলতানের সামনের বা পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়। এখন সে তিন পায়ে চলাচল করে।

তার কাছে থাকা ৫২টি কুকুর বিড়ালের ৫২টি গল্প আছে। যখন যেখানে কুকুর বিড়াল বিপদে পড়ে সেখানেই হাজির হন রবিনহুড। তাৎক্ষনিক তাদের সহযোগিতা করতে হাত বাড়ান। যদি স্বল্প চিকিৎসায় ভালো না হয় তাহলে নিয়ে আসেন তার আশ্রয়কেন্দ্রে।

বিজ্ঞাপন

রবিনহুডের বাহুবলি নামে মানসিক অসুস্থ একটি বিড়াল আছে। সে ক্ষেপে গেলে রক্ষা  নেই কারও। হোক তার স্বজাতি বিড়াল অথবা কুকুর, সবাই বাহুবলির ক্ষিপ্ত রুপ দেখে ছুটে পালায়। ব্লাকিও একটি বিড়াল, সে সারাদিন ঘুমাতে পছন্দ করে। কেউ তাকে বিরক্ত করুক তা সে চায় না। রিও এর সারা শরীরে পোকা ছিল এক সময়। ধনীর বাড়িতে থাকা এ কুকুরটিকে পুলিশের সাহায্যে উদ্ধার করে আনেন রবিনহুড। এছাড়া পুকি নামের এক কুকুরকে একদল মানুষ আঘাত করে দাঁত ভেঙে ফেলে ও চোখ নষ্ট করে দেয়। এখন রবিনহুড তার শেষ আশ্রয়।

রবিনহুড ছোট পর্দায় অভিনয় করেন। কিন্তু অভিনয়ে নয়, তিনি তার পালিত এসব জীবের সঙ্গেই বেশি সময় ব্যয় করেন। রবিনহুড দ্যা এ্যানিমল রেস্কিউয়ার' নামে একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। প্রাণী উদ্ধার করতে হবে এমন কোনও তথ্য তার কাছে এলে তিনি সদলবলে সেখানে ছুটে যান। স্পাইডার ম্যানের মত বিভিন্ন স্থানে আটকে টাকা অসুস্থ প্রাণীদের উদ্ধার করতে তার জুড়ি নেই। বিস্ময়করভাবে বেয়ে বেয়ে উঠেন কয়েকতলা ভবন। সেখান থেকে উদ্ধার করে আনেন অসহায় প্রাণীদের।

তবে এতো কিছুর মাঝেও রবিনহুডকে পথ চলার ক্ষেত্রে থমকে যেতে হয়। কারণ ৫২টি কুকুর-বিড়ালকে লালন পালন করতে তাকে প্রচুর অর্থ ব্যায় করতে হয়। শুধু তাই নয় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের পোষাপ্রাণীদের উদ্ধার করতেও খরচ করতে হয়। এতো কিছুর মাঝেও স্বপ্ন দেখে রবিনহুড।

রবিনহুড বলেন, কুকুর-বিড়াল সমাজের বাহিরের নয়। তারা আমাদের প্রতিবেশী। তারা আছে বলে সমাজে ব্যালেন্স থাকে। তাদের দেখভালের দ্বায়িত্ব আমাদের। অসেচতনতার কারণে অনেকেই তাদের আঘাত করছেন। আবার অনেকে আবেগে পোষা প্রাণী লালন পালন শুরু করলেও একসময় তারা পশু প্রাণীটির প্রতি অবজ্ঞা করতে থাকেন। এতে করে পোষাপ্রাণীটির জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, নিজ উদ্যোগে উদ্ধার করা, লালন পালন করা, চিকিৎসা সেবা দেয়া এখন অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ৫২টি কুকুর-বিড়াল লালন পালন করতে আমাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্বপ্ন দেখি ৫২ থেকে ৫২ হাজার আশ্রয় দেব। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে একার পক্ষে এখন অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রবিনহুডের একটা গ্রুপ রয়েছে ‘রবিনহুড দ্যা অ্যানিম্যাল রেসকিউয়ার’ নামে। আর্থিকভাবে এ অসহায় প্রাণীগুলোর জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন এ গ্রুপে প্রবেশ করে।

এমসি/জিএ/এমকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission