জলবায়ু রক্ষায় তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ , ১২:০৯ পিএম


জলবায়ু রক্ষায় তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে

জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে সবাইকে এখনই শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। জলবায়ু রক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি তরুণ সমাজকেও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) আয়োজিত ‘মাতৃভূমিকে রক্ষা, নিজেদের রক্ষা ও জলবায়ু ভারসাম্য রক্ষায় তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা’ শীর্ষক বিশেষ ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ওয়েবিনারটি শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ টায় আরটিভির ফেসবুক পেজে সম্প্রচার করা হয়।

ইউএসএআইডির ইকোনমিক গ্রোথ অফিসের পরিচালক ড. মোহাম্মদ এ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের এমন একটি প্ল্যাটফরমে নিয়ে আসা, যেখান থেকে এই সমস্যার একটি বাস্তবসম্মত সমাধান উঠে আসবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা চাই এ বিষয়ে কাজ করার জন্য তরুণ জনগোষ্ঠীকে সক্রিয় করতে। তারা যেন তাদের সমাজের এবং বৈশ্বিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাজ করতে পারেন। 

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে এবং নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আমরা বাংলাদেশের অংশীদার হিসেবে কাজ করছি। বিশ্বজুড়ে অনেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করে। যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিবেদক ইফতেখার মাহমুদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের দেশের মধ্যে যেসব রিসোর্স রয়েছে, সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। অনেকদিন ধরে নানান দুর্যোগ-দুর্বিপাকের সঙ্গে লড়াই করে আমরা টিকে আছি। জলবায়ু পরিবর্তন এসে আমাদের সমস্যাগুলো আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ছোট্ট একটি উদাহরণ যদি বলি, আমাদের দেশে ডিজেল চালিত যেসব নৌকা বা ট্রলার আছে সেগুলো থেকে কার্বনডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয়। এগুলোকে যদি আমরা সোলার চালিত করতে পারি বা আমাদের তরুণরা যদি এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পারে, তাহলে কিন্তু কার্বনডাই-অক্সাইড নিঃসরণ অনেকটা কমে আসবে। এগুলোকে আমরা যদি ডেভেলপ করতে পারি, তাহলে এটা যেমন আমাদের সরকারের যে পরিকল্পনা সেটি এবং ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমরা ভূমিকা রাখতে পারি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ জনগোষ্ঠী। আগামী দিনের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের যেসব নীতিমালা ও পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলোতে এই তরুণদেরকে এখন থেকেই সম্পৃক্ত করতে হবে। যেটা বিশ্বের অনেক দেশ করেছে। তারা যদি দেশের রাষ্ট্রীয় নীতিমালা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দেশের বিদ্যমান রিসোর্স- এসব বিষয় মাথায় রেখে এগোতে থাকে, তাহলে জলবায়ু স্থিতিস্থাপক দেশ হিসেবেও আমরা পৃথিবীতে একটা উদাহরণ তৈরি করতে পারব।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান শিকার হলো বাংলাদেশ, এটা সবাই জানে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে গত কয়েকবছর ধরে সারাবিশ্বেই সচেতনতা তৈরি হয়েছে। প্রতিবছর কপ সম্মেলন হচ্ছে, সেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধান ও জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হচ্ছে, সবকিছুই হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। বৈশ্বিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আমাদের আগের প্রজন্ম এবং আমাদের প্রজন্মের সফলতার চাইতে ব্যর্থতাই বেশি।

তিনি বলেন, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব যে অগ্রগতি, সেটি অবশ্যই প্রণিধানযোগ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১৪ বছরে বাংলাদেশ সারাবিশ্বের কাছে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নিজেদের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী বার বার পুরস্কৃত হয়েছেন। আমরা ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ প্রণয়নসহ আরও অনেক কাজ করছি। আমরা বাহিরের দিকে তাকিয়ে বসে নেই।

এমপি তানভীর শাকিল জয় বলেন, তবে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে আমাদের তরুণরা অসাধারণ কাজ করছেন। এই একটি বিষয়ে আমাদের দেশের সরকার, সুশীল সমাজ ও তরুণরা সবাই এক বিন্দুতে রয়েছেন। আমরা সবাই একমত যে জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সংকট। এ বিষয়ে সবাইকে বৈশ্বিক ও স্থানীয়ভাবে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের তরুণরা নিজেরাই অনেক কাজ করছে ও উদ্যোগ নিচ্ছে। যেগুলো থেকে আমরাও শিক্ষাগ্রহণ করছি। পৃথিবীকে আমরা ইতোমধ্যে অবাসযোগ্য করে ফেলেছি। এখন এটাকে ঠিক করতে হলে আমাদের তরুণ ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য করতে হবে। এ বিষয়ে আমাদের তরুণরা বৈশ্বিক ফোরামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ সবশেষ কয়েকটি কপ সম্মেলনে আমি তরুণদের ভূমিকা দেখেছি। বিশ্বের তাবর তাবর রাষ্ট্রপ্রধানদের থেকে এক গেটা থুনবার্গই সারাবিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তাই ইউএসএআইডির মতো এমন উদ্যোগ চলমান থাকা প্রয়োজন।

ওয়েবিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন- ইউএসএআইডির পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আশরাফুল হক, স্থপতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ সামিয়া অবনি, দ্য আর্থের সহপ্রতিষ্ঠাতা শাকিলা সাত্তার তৃণা, ইউএসএআইডির কম্পাস প্রোজেক্টের ইয়ুথ কনজারবেশন কর্পস স্পেশালিস্ট মোহাম্মদ মোফাখ খারুল তৌফিক। এ ছাড়া ক্যাম্পেইনের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে থাকছেন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক মোহসীন-উল হাকিম।

এ ছাড়া ওয়েবিনারে তরুণ সমাজের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইউএসএআইডির সিনিয়র কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট আশিক রুশদী।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission