এল নিনোর প্রত্যাবর্তনের পূর্বাভাস, আরও উষ্ণ হতে পারে বিশ্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ , ০৭:২০ পিএম


এল নিনোর প্রত্যাবর্তনের পূর্বাভাস, আরও উষ্ণ হতে পারে বিশ্ব
তীব্র খরায় চৌচির হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতিনিয়ত বাড়ছে এই পরিস্থিতি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকে এল নিনোর আসন্ন প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, এই আবহাওয়া প্রবণতা ফিরে এলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বন্যা বা খরার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও তীব্র হতে পারে।

মঙ্গলবার(২ জুন) জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরের আগেই এল নিনো গঠনের সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। আর নভেম্বরের আগে এই সম্ভাবনা ৯০ শতাংশে পৌঁছাবে। সংস্থাটির মতে, অধিকাংশ পূর্বাভাস মডেল অন্তত মাঝারি মাত্রার এল নিনো দেখাচ্ছে, যা পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী রূপও নিতে পারে।

এর আগে কয়েকজন বিজ্ঞানী সতর্ক করেছিলেন যে এটি চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী বা ‘সুপার এল নিনো’ হতে পারে। তবে ডব্লিউএমও এই পূর্বাভাসের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হয়নি এবং ‘সুপার এল নিনো’র মতো অনানুষ্ঠানিক শব্দ ব্যবহার প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি বলছে, পূর্বাভাসে এখনও যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আরও পড়ুন

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, বিভিন্ন পূর্বাভাস মডেলের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। কিছু মডেল শক্তিশালী এল নিনোর কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না, আবার অন্যগুলো তা দেখাচ্ছে।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের দেশগুলো এটিকে জরুরি জলবায়ু সতর্কবার্তা হিসেবে নিতে হবে। এল নিনোর পরিস্থিতি উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীর আগুনে আরও ঘি ঢালবে। এর প্রভাব আরও কঠোর হবে, আরও দূরে ছড়াবে এবং ভয়াবহ গতিতে সীমান্ত অতিক্রম করবে। এই সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা শেষ করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

সাধারণত কয়েক বছর পরপর এল নিনো দেখা দেয় এবং তা ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে আরও উষ্ণ হয়ে ওঠে। ডব্লিউএমও জানিয়েছে, এপ্রিলের শেষ ভাগ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের যেসব অংশকে এল নিনোর সূচক ধরা হয়, সেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ইতোমধ্যে এল নিনোর সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

সর্বশেষ ২০২৩-২৪ সালের এল নিনো ছিল রেকর্ডে থাকা পাঁচটি শক্তিশালী ঘটনার একটি, যা ২০২৪ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়তে বড় ভূমিকা রেখেছিল। ডব্লিউএমও জানিয়েছে, আগামী তিন মাসে বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টি ও খরার ঝুঁকিও বাড়বে।

সাধারণত এল নিনোর সময় দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়। বিপরীতে মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে তীব্র শুষ্ক আবহাওয়া ও খরা দেখা যায়।

ব্রিটিশ থিংকট্যাংক এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের গ্যারেথ রেডমন্ড-কিং বলেন, এই পরিস্থিতি খাদ্য সরবরাহের জন্য চরম খারাপ খবর। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ইরান যুদ্ধের কারণে সার সরবরাহে বাধা ইতোমধ্যে বিশ্ব বাজারে চাপ তৈরি করেছে। এল নিনো যদি ২০২৭ সালে আরেকটি অতিরিক্ত উষ্ণতম বছর নিয়ে আসে, তবে তা বহু কৃষকের জন্য ধ্বংসাত্মক হবে এবং অনেক মানুষের জন্য এটি জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission