সকল ধরনের ফি কমানো ও পোষ্য কোটা বাতিল-সহ চার দফা বাস্তবায়নের দাবিতে অনশনরত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থীকে পানি খাওয়ানোর মাধ্যমে অনশন ভাঙালো উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। ৯ ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় উপাচার্যের উপস্থিতিতে আশ্বস্ত হয়ে অনশন প্রত্যাহার করে নেয় শিক্ষার্থীরা।
দুই শিক্ষার্থীরা হলেন— সমাজকল্যাণ বিভাগের ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্মের ইবি শাখা যুগ্ম সদস্য সচিব। তবে পরে সংহতি জানিয়ে রাজু আহমেদ জীবন নামক আরেক শিক্ষার্থীও কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিলেন।
উপাচার্য উপস্থিত হয়ে ওই শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়— আমার ওপর আস্থা রাখো, আমি তোমাদের অভিভাবক হয়ে রিকুয়েষ্ট করছি। তোমাদের দাবিগুলো সিস্টেমের মধ্যে এড্রেস করবো। পানি খাও, চলো।
অনশন ভাঙানোর পর বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ বলেন, দুপুর থেকে আমরা অনশনে ছিলাম, ৩ বার প্রক্টর স্যার আসছিলেন, আমি জানিয়েছিলাম যে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিব। পরে সন্ধ্যায় উপাচার্য নিজেই উপস্থিত হয়ে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা কয়েকদিন অবজার্ভ করবো, যদি বাস্তবায়ন না হয় আবারও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।
আরেক শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ বলেন, আমরা সর্বোচ্চ অভিভাবক উপাচার্য স্যারের মৌখিক আশ্বাসে অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছি। উনি আমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিতে পারেনি। যদি বাস্তবায়ন না হয়, তবে কয়েকদিন ধৈর্য্য ধরে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।
কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ধোঁয়াশা
শনিবার (২০ জুন) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে চার দফা দাবি জানিয়েছেন দুই শিক্ষার্থী। চার দফা দাবিগুলো হলো— বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত পোষ্য কোটা অনতিবিলম্বে বাতিল, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অশোভন ও অসৌজন্যমূলক আচরণ বন্ধ করা, সার্টিফিকেট উত্তোলনে হয়রানি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া সব ধরনের অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক ফি কমানো।
চার দফা দাবির মধ্যে পোষ্য কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অন্যান্য দাবিগুলো সিস্টেমের মধ্যে পূরণের সক্ষমতা রাখে তারা।
পোষ্য কোটা বাতিলের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, যেহেতু প্রজ্ঞাপন জারি করে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এবার বাতিল করা সম্ভব না। যদি প্রশাসন চায় আগামী বার থেকে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান পোষ্য কোটা ব্যতীত অন্য দাবিগুলো পূরণে আশ্বস্ত করে গণমাধ্যমকে বলেন, পোষ্য কোটার বিষয়ে ২০টা বিশ্ববিদ্যালয় মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি শেষবেলায় এসে এ ব্যপারে পদক্ষেপ নিতে পারি না। ভবিষ্যতে এই বিষয় আমরা বিবেচনায় রাখবো। কারণ, আমি তো এটার যাত্রা শুরু করি নাই। শেষ পর্যায় এসে আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। একজন ছাত্র যখন এ বিষয়ে দাবি করে পক্ষান্তরে এক হাজার ছাত্র রাস্তায় দাড়াবে তখন কী করবে? বাকি তিনটা দাবির ব্যপারে বিবেচনায় নিয়েছি। এ ব্যপারে একজনের ভয়েস আর একশো জনের ভয়েস একই।
আরটিভি/এমএম


