ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফিরোজা নাজনীনের শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে নানা বিতর্কের পর অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে একটি 'ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি' গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিয়োগ বোর্ডের আগের দিন বোর্ডের এক্সপার্টের সঙ্গে প্রার্থীর স্বামীর সাক্ষাৎ, ফলাফল অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির অভিযোগ, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এবং বিভাগীয় সভাপতির তথ্য দিতে গড়িমসির বিষয় উঠে আসে। এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান সিন্ডিকেট সদস্যদের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করেছেন।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রোকসানা মিলিকে। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন একাডেমিক শাখার কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন থিওলজি অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. সেকান্দার আলী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্যই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রোকসানা মিলি বলেন, ডিন অফিসে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একাডেমিক শাখা বিষয়টি অবহিত করেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত তদন্তকাজ শুরু করা হবে।
অন্যদিকে সদস্য সচিব মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, কমিটি গঠন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পাওয়ার পর কার্যক্রম শুরু হবে।
এর আগে নিয়োগ বোর্ডের আগের দিন বোর্ডের এক্সপার্ট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী ফারহানের সঙ্গে কুষ্টিয়ার একটি আবাসিক হোটেলে প্রার্থী ফিরোজা নাজনীনের স্বামী অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের সাক্ষাৎ নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। নিয়োগের আগের দিন ওই সাক্ষাতের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ফিরোজা নাজনীন তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নকালে ড. জাহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ছিলেন। পরে মানোন্নয়ন পরীক্ষার সময়ও তিনি দায়িত্বে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় প্রার্থীর ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বর্ষে ফিরোজা নাজনীনের ফল ছিল ২ দশমিক ৯৩, দ্বিতীয় বর্ষে ৩ দশমিক ৩৫, তৃতীয় বর্ষে ৩ দশমিক ৫৭ এবং চতুর্থ বর্ষে ৩ দশমিক ৮৪। পরে মানোন্নয়ন পরীক্ষার পর প্রথম বর্ষের ফল বেড়ে ৩ দশমিক ৩৮, দ্বিতীয় বর্ষে ৩ দশমিক ৪২ এবং তৃতীয় বর্ষে ৩ দশমিক ৬৪ হয়। মাস্টার্সে তার ফল ছিল ৩ দশমিক ৬৪।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, গঠিত 'ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি' অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আরটিভি/জেএমএ



