সম্মিলিত দোয়া’র ফজিলত অনেক

হাফেজ মাওলানা নাসিরউদ্দিন

শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ , ০৬:৩৪ পিএম


সম্মিলিত দোয়া’র ফজিলত অনেক

দোয়া অনেক বড় আমল, এমনকি অনেক হাদীস শরিফে এসেছে দুআই ইবাদত। এই দোয়া যেমন একা একা করা যায় তেমনি সম্মিলিতভাবেও করা যায়। শরীয়ত যেখানো কোনো একটি পন্থা নির্দিষ্ট করেনি, সেখানে উভয় পন্থাই মুবাহ। বিনা দলিলে কোনো একটিকে যেমন নাজায়েজ বলা যায় না তেমনি সুন্নত বা জরুরিও বলা যায় না। এ ধরণের ক্ষেত্রে উভয় পন্থাই মুবাহ। সম্মিলিত দোয়া দুইভাবে হতে পারে। এক. সমবেত লোকজনের মধ্যে একজন দোয়া করবে এবং অন্যরা আমীন বলবে।

দুই. এক স্থানে সমবেত হয়ে সবাই দোয়া করবে, প্রত্যেকে নিজে নিজে দোয়া করবে। এই ‍উভয় পদ্ধতিই জায়েজ।

এছাড়া সমবেত হওয়ারও দুই পদ্ধতি হতে পারে। শুধু দোয়া’র উদ্দেশ্যেই সমবেত হওয়া কিংবা কোনও দ্বীনি বা দুনিয়াবি কাজের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়ে মজলিশের শুরু বা শেষে সম্মিলিতভাবে দোয়া করা। এই দুই পদ্ধতিই জায়েজ।

শরীয়তে সম্মিলিত দোয়া’র এমন কিছু ক্ষেত্র বিদ্যমান রয়েছে যা একেবারেই ‍সুস্পষ্ট এবং যে বিষয়ে দ্বিমতের কোনোই অবকাশ নেই। যেমন-

ক) জামাতে নামাজে জাহেরি (স্বশব্দে) কিরাতে ইমাম যখন সুরা ফাতিহা শেষ করেন তো সবাই ‘আমিন’ বলে। নামাজে সুরা ফাতিহা মূলত কিরাত হিসেবে পড়া হলেও তা একই সঙ্গে দোয়াও বটে। এজন্যই তা সমাপ্ত হওয়ার পর আমিন বলা সুন্নত। একই কারণে সুরা ফাতিহার অপর নাম ‘দুআউল মাসয়ালা’।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: এক সফরে একাধিক উমরাহ করা যাবে কী
--------------------------------------------------------

খ) জানাজার নামাজ একদিকে যেমন নামাজ অন্যদিকে তা দোয়াও । জানাজার নামাজের মূলকথা হচ্ছে দোয়া। এই নামাজও জামাতের সঙ্গে আদায় করা হয় এবং তৃতীয় তাকবিরের পর ইমাম মুকতাদী সবাই একসঙ্গে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করেন।

গ) অনাবৃষ্টি দেখা দিলে এবং প্রয়োজন সত্ত্বেও যথারীতি বৃষ্টি না হলে শরীয়তে ‘ইস্তিসকার’ (অর্থাৎ আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি কামনা করা) নির্দেশ এসেছে। ইস্তিসকার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। একটি পদ্ধতি এই যে, সবাই সম্মিলিতভাবে দোয়া করবে। হাদীস শরিফে আছে, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টির জন্য উভয় হাত উঠিয়ে দোয়া করেছেন।(বুখারী শরীফ)

ঘ) জুমা ও দুই ঈদের খুৎবায় খতীব দোয়া করেন এবং শ্রোতাগণ মনে মনে আমিন বলেন। সম্মিলিত এই দোয়া’র পদ্ধতি ও সব জায়গায় প্রচলিত রয়েছে। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত ‘ইস্তিগফার’ এর মাধ্যমে খুৎবা সমাপ্ত করতেন। (আবু দাউদ শরীফ)

ঙ) ইতিহাসে আলা আলহাযরামী (রা.) এর ঘটনা সুপ্রসিদ্ধ। বাইরাইনের মুরতাদদের সঙ্গে ১১ হিজরীতে যে লড়াই হয়েছিল তাতে তিনি সিপাহসালার ছিলেন। সেই অভিযানের একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা এই যে, মুসলিম বাহিনী একস্থানে যাত্রাবিরতি করে, কাফেলার সকল উট রসদপত্রসহ পলায়ন করল। একটি উটও পাকরাও করা গেল না। অবস্থা এই দাঁড়াল যে পরনের কাপড় ছাড়া কিছু নেই। সবাই চিন্তিত। আলা আলহাযরামী (রা.) সবাইকে একত্র করলেন এবং শান্তনা দিয়ে বললেন, তোমরা মুসলমান, আল্লাহর রাস্তায় আছ, তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী।

অতএব আল্লাহ তোমাদেরকে সহায়-সঙ্গীবিহীন অবস্থায় ত্যাগ করবেন না। ইতোমধ্যে ফজরের আজান হল। তিনি নামাজে ইমামতি করলেন। নামাজের পর দোজানু হয়ে বসে অন্তত বিনয় ও কাতরতার সঙ্গে দোয়ায় মশগুল হয়ে গেলেন। কাফেলার সবাই দোয়া করতে লাগল। এ অবস্থায়  সূর্য উদিত হল, এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা তাদের সন্নিকটে একটি বড় জলাশয় সৃষ্টি করে দিলেন। সবাই সেখানে গেলেন, তৃ্ষ্ণা নিবারণ করলেন এবং গোসল করলেন। বেলা কিছু চড়ার পর একে এক সকল উট সমস্ত রসদসহ ফিরে আসতে লাগল। (দেখুন, আলবিদায়া ওয়াননিহায়া, ৫/৩৪)

সম্মিলিত দোয়া সম্পর্কে আরো হাদীস জানতে হলে দেখুন শায়েখ হাফিজ মাক্কী সংকলিত ‘ইতিহাসবাবুদ দোয়া বা’দাল ফারাইজ’ কিতাবটি। আল্লাহ আমাদের অতিরঞ্জিত থেকে হেফাজেত করুন। (আমিন)।

আরও পড়ুন: 

কেএইচ/এমকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission