নখ কাটলে কি অজু ভেঙে যায়?

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৬:৪৮ পিএম


নখ কাটলে কি অজু ভেঙে যায়?
নখ কাটলে কি অজু ভেঙে যায়? ছবি: সংগৃহীত

নারী পুরুষের দায়েমি সুন্নতের একটি হলো সপ্তাহে একদিন নখ কাটা। নখ ডান হাত ও ডান পা থেকে কাটা সুন্নত। আর কোন আঙ্গুল থেকে কাটা শুরু করবে, তা নিয়ে একটা বর্ণনা আমাদের সমাজে প্রচলিত। তবে এটা কোনো হাদিস ও সাহাবিদের আমলের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়।

আমাদের সমাজে নখ কাটাকে ঘিরে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে বলেন, নখ কাটলে নাকি অজু ভেঙে যায়। আবার কেউ কেউ মনে করেন, নখ কাটার একটি নির্দিষ্ট ক্রম আছে, যা নাকি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, এসব ধারণার বেশিভাগেরই কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি নেই। 

নখ কাটার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণের যে নিয়ম প্রচলিত আছে, তা আসলে আদব হিসেবে কিছু ফকিহ ও বুজুর্গরা উল্লেখ করেছেন। তবে এটিকে হাদিস বা সাহাবায়ে কেরামের আমল দিয়ে প্রমাণ করা যায় না।

ফকিহরা বলেন, নখ কাটার আদব হলো, হাত দুটো মুনাজাতের মতো করে ধরে ডান হাতের শাহাদাত আঙুল থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে গিয়ে শেষ করা। এরপর সর্বশেষে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির নখ কাটা (ফাতওয়ায়ে শামি ৬/৪০৬; ফাতওয়ায়ে আলমগিরি ৫/৩৫৮)। এটি একটি সুন্দর নিয়ম হলেও একে বাধ্যতামূলক বলা যাবে না।

আরও পড়ুন

অনেকের মনে এই প্রশ্ন জাগে, আবার কেউ কেউ অজুর পর নখ কাটতে ভয় পান। অথচ শরীয়তের আলোকে এর সুস্পষ্ট উত্তর হলো, নখ কাটলে অজু ভাঙে না।

এ প্রসঙ্গে রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, নখ কাটা বা চুল ছাঁটার মধ্যে অজু ভাঙার কোনো কারণ নেই। অজুর ভেতরে যেসব বিষয়কে অজু নষ্টের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, নখ কাটা তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইয়াহইয়া শহিদ জানান, হাসান বসরিকে (রহ.) একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেউ যদি অজু করার পর চুল বা নখ কাটে, তাহলে কি তার অজু ভেঙে যাবে? উত্তরে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এ সব কারণে অজুর কোনো ক্ষতি হয় না। নতুন করে অজু করতে হবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৫৭৬)।

অতএব, নখ কাটার পর অজু ভেঙে যায়— এ কথা সঠিক নয়। অজু করার পর নখ কাটলে নতুন করে অজু করতে হবে না। ইসলাম আমাদের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে দিয়েছে, তাই এখানে কুসংস্কার বা অযথা ভয়ের কোনো স্থান নেই।

অজু ভঙ্গের প্রধান কারণগুলো

১. প্রাকৃতিক পথ দিয়ে নির্গত হওয়া : পায়খানা, প্রস্রাব, পায়ুপথ দিয়ে বায়ু বা এমন কিছু নির্গত হওয়া। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও নামাজ হবে না, যদি তার ‘হাদাস’ হয় আর অজু না করে।’ (সহিহ মুসলিম : ২২৫)

‘হাদাস’ মানে পায়খানা, প্রস্রাব, পায়ুপথ দিয়ে বায়ু বা এমন কিছু নির্গত হওয়া।

২. ক্ষতস্থান থেকে বের হওয়া তরল : শরীর কোথাও থেকে রক্ত, পুঁজ বা হলুদ পানি এতটুকু যদি বের হয়, যা গড়িয়ে পড়ার মতো, তাহলে তা অজু ভঙ্গ করে।

৩. গভীর ঘুম : গভীর ঘুমে পড়ে গেলে অজু ভেঙে যায়; কারণ, এ সময় শরীরের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে বসে বা হালকা ঘুমে অজু ভাঙে না। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘চোখ জাগ্রত থাকলে পায়ু বন্ধ থাকে।’ (মুসনাদে আহমদ : ১৬,৮৯৩)

৪. সংজ্ঞা হারানো : মূর্ছা যাওয়া, মদ্যপান বা অন্য কারণে সংজ্ঞা হারালে অজু ভেঙে যায়।

৫. জননাঙ্গ স্পর্শ : পুরুষ বা নারী সরাসরি যৌনাঙ্গ দিয়ে অন্যের যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলে অজু ভাঙে। (সুনানে আবু দাউদ : ১৮১)

৬. বমি : প্রবল বেগে মুখ ভরে বমি হলে অজু ভেঙে যায়।

৭. নামাজে হাসা : নামাজে জোরে হাসলে অজু ও নামাজ দুটিই ভেঙে যায়। তবে মৃদু হাসলে শুধু নামাজ নষ্ট হয়।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission