রমজান মানে শুধু ক্ষুধা–তৃষ্ণা সহ্য করা নয়- রমজান হলো স্রষ্টার সঙ্গে গভীর সান্নিধ্য গড়ে তোলার, নিজের আত্মাকে নতুন করে আবিষ্কার করার এক অনন্য সুযোগ। এই মাস আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য বিশেষ অনুগ্রহ। যে অনুগ্রহ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে একটি রমজানই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
নবীজি (সা.) সুসংবাদ দিয়েছেন- ঈমান ও সওয়াবের প্রত্যাশায় যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয় (সহিহ বুখারি)। তাই রমজানকে কেবল আনুষ্ঠানিক ইবাদতের তালিকা হিসেবে নয়, আত্মিক পুনর্জাগরণের বসন্ত হিসেবে গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
১) কৃতজ্ঞতা ও তাকওয়ার চর্চা
রমজানের আসল লক্ষ্য তাকওয়া- আল্লাহ-সচেতনতা জাগ্রত করা। পবিত্র কোরআন-এ বলা হয়েছে, এই মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে মানুষের হেদায়েতের জন্য। আর এর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের পথ দেখিয়েছেন যেন আমরা তার মহিমা ঘোষণা করি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি (সুরা বাকারা: ১৮৫)।
এই কৃতজ্ঞতা শুধু মুখের কথায় নয়- সময়, আচরণ ও অভ্যাসে প্রকাশ পেলেই রমজান অর্থবহ হয়।
২) দেহের উপোস, আত্মার পুষ্টি
রমজানে দেহকে সংযত রাখার উদ্দেশ্য আত্মাকে শক্তিশালী করা। সারা বছর আমরা শরীরের প্রয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকি- এই এক মাস আত্মার খোরাক জোগানোর সময়। ‘তারাবিহ’ নামাজ কেবল দীর্ঘতা নয় এটি কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ার সুবর্ণ সুযোগ। আত্মা যেহেতু আল্লাহর দান, তার প্রকৃত খাদ্যও আল্লাহর কালাম।
৩) সামাজিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্ব
মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ, ইফতারে একসঙ্গে বসা, দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানো- এসবই রমজানের সামাজিক সৌন্দর্য। এতে একাকীত্ব ভাঙে, ভ্রাতৃত্ব দৃঢ় হয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, রমজানের শুরু রহমত, মাঝখান মাগফিরাত আর শেষাংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তি- এই ধারাবাহিকতায় পুরো মাসটাই আমাদের জন্য কল্যাণের দুয়ার খুলে দেয়।
৪) রমজান ফলপ্রসূ করার ব্যবহারিক কৌশল
রমজানকে চাপ নয়, আনন্দে পরিণত করতে কয়েকটি বাস্তব অভ্যাস কাজে দেয়—
ধীরে শুরু করুন: প্রথম দিনেই সব আমল নিখুঁত করার চাপ নেবেন না। ধারাবাহিকতা সবচেয়ে প্রিয়।
সাহরি ও ইফতার সচেতনভাবে: সাহরি সুন্নাত এবং এতে বরকত আছে— এটি শক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
কোরআনের সঙ্গে নিয়মিত সময়: প্রতিদিন অন্তত ১০–১৫ মিনিট অর্থসহ তিলাওয়াত করুন। অল্প হলেও নিয়মিত হোন।
অপ্রয়োজনীয় কথা বর্জন: রোজা শুধু পানাহার নয়, মিথ্যা, গিবত ও অশোভন আচরণ থেকে বিরত থাকাই রোজার রুহ।
৫) শেষ দশ দিন ও লাইলাতুল কদর
রমজানের শেষ দশ দিন হলো সেরা বিনিয়োগের সময়। এই রাতগুলোর বিজোড় এক রাতে রয়েছে লাইলাতুল কদর- যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম (সুরা কদর: ৩)। এই রাতে ইবাদত মানে দীর্ঘ জীবনের ইবাদতের সওয়াব। নিজের ভুলগুলো থেকে ফিরে আসার, নতুন অধ্যায় শুরু করার এটাই শ্রেষ্ঠ সুযোগ।
>>> রমজান উপবাসের মাস হলেও মূলত এটি ধৈর্য, সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস। নবীজি (সা.) একে ‘ধৈর্যের মাস’ বলেছেন- কারণ ধৈর্যই আমাদের বদলে দেয়। যদি এই রমজানে নিয়ত ঠিক রাখি, অল্প হলেও নিয়মিত আমল করি এবং কৃতজ্ঞতার সঙ্গে চলি তাহলে এ রমজানই হতে পারে জীবনের শ্রেষ্ঠ রমজান।
আরটিভি/এমএইচজে





