ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রে ইসলাম সহজ আমলের মাধ্যমে অধিক সওয়াব অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও এমন কিছু জিকির রয়েছে, যা অল্প সময়ে পাঠ করা সম্ভব এবং যার ফজিলত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ জিকির হলো—
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইন কাদীর।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি এক, তার কোনো শরিক নেই। সার্বভৌম ক্ষমতা তারই, সমস্ত প্রশংসা তার জন্য এবং তিনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।
ইসলামি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এ জিকিরের বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার এই জিকির পাঠ করবে, তার জন্য ১০টি গোলাম মুক্ত করার সমপরিমাণ সওয়াব লেখা হবে। পাশাপাশি ১০০টি নেকি তার আমলনামায় যোগ হবে এবং ১০০টি গুনাহ মাফ করা হবে। একই সঙ্গে সে সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তানের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষিত থাকবে। আর কেউ তার চেয়ে উত্তম আমল করতে পারবে না, তবে যে ব্যক্তি এর চেয়ে বেশি পাঠ করবে সে ব্যতিক্রম।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, এই জিকিরের মূল শক্তি নিহিত রয়েছে তাওহিদের ঘোষণায়। এতে আল্লাহর একত্ব, সার্বভৌম ক্ষমতা ও সর্বশক্তিমত্তার স্বীকৃতি একত্রে প্রকাশ পায়। মানুষের জীবনে নানা অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মাঝেও এই বিশ্বাস তাকে মানসিক স্থিরতা ও আস্থা জোগায়।
প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার মধ্যেও কয়েক মিনিট সময় বের করে ১০০ বার এই জিকির পাঠ করা কঠিন নয়। ফজরের নামাজের পর বা দিনের শুরুতে এটি আদায় করলে তা অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। নিয়মিত চর্চায় অন্তরে আল্লাহভীতি বৃদ্ধি পায় এবং নেকির ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে আখিরাতের সফলতা অর্জনই চূড়ান্ত লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে সহজ কিন্তু ফলপ্রসূ আমল হিসেবে প্রতিদিন ১০০ বার এই জিকির পাঠ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন হয়ে উঠতে পারে। নিয়মিত ও আন্তরিক চর্চাই এনে দিতে পারে নেকিতে অগ্রগামী হওয়ার সম্ভাবনা।
আরটিভি/এমএইচজে




