প্রত্যেক প্রাণীর মৃত্যু নিশ্চিত। তাই পৃথিবীর কোলে জন্ম নিলে একদিন মারা যেতে হবে। ইসালামী শরিয়ত অনুসারে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তাকে কবরে দাফন করা হয়। এ সময় বেশিভাগ মানুষ তার আত্মীয়স্বজনকে মসজিদের কাছে কবর দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তারা মনে করেন, মসজিদের আজান, নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরের সওয়াব মৃত ব্যক্তি পান। মৃত ব্যক্তি আজান ও কিরাত শুনতে পান। কিন্তু ইসলামি বিধান মতে, মসজিদের পাশে কবর নির্মাণ করা সৌভাগ্যের বিষয় নয়।
মসজিদের পাশে বা আঙিনায় কবর দিলে কবরের আজাব কম হয় বা সওয়াব বেশি পাওয়া যায়—এরকম কথা কোরআন-হাদিসের কোথাও নেই।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল স্থগিত হয়ে যায়, শুধু তিনটি আমল ছাড়া—এক. সদকায়ে জারিয়া, দুই. এমন জ্ঞান যা থেকে মানুষ উপকৃত হয়, তিন. এমন নেক (ভালো) সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬৩১)
এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে এক আলোচনায় বলেন, ‘মসজিদের পাশে কবর দিলে এর আলাদ কোনো উপকারিতা আছে কি না, এটাকে আমরা দুভাবে দেখতে পারি।’
‘প্রথমত, শরিয়তের দিকে আমরা যখন তাকাই তখন দেখা যায়, মসজিদ-মাদ্রাসার আঙিনায় বা পাশে কবর দিলে বিশেষ কোনো ফজিলত আছে, এমনটা কোরআন-হাদিসের কোথাও বলা হয়নি। এটা বলা হয়নি যে, এখানে দিলে অতিরিক্ত ফজিলত হবে, সওয়াব হবে।’
তিনি বলেন, ‘হাঁ, কবরস্থানগুলো মসজিদের আশপাশে থাকা ভালো। কারণ এতে মসজিদের মুসল্লিরা প্রতিনিয়ত কবর জিয়ারতের আমলটা করতে পারেন এবং কবরবাসীকে যতবার দেখেন ততবার দোয়া করার সুযোগ পান। সেজন্য কবরস্থান মসজিদের আশেপাশে ভালো। কিন্তু কবরস্থান যদি দূরে হয় তাহলে সেক্ষেত্রে মসজিদ-মাদ্রাসার পাশে একটা সিঙ্গেল কবর দেওয়া, এটা সুন্নাহ নয় । সুন্নাহ হলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে কবর দেওয়া। অর্থাৎ, গণকবর হওয়া।’
‘দ্বিতীয়ত, আল্লাহর রহমত বান্দার প্রতি আসার জন্য অনেক সময় বাহানা তালাশ করে। এখন ধরুন একজন মানুষের অনেক গোনাহ আছে, তিনি আল্লাহর রহমত পাওয়ার জন্য উসিলা খুঁজছেন যে, আল্লাহ আপনার ঘরের পাশে কবর হলে যদি আপনি একটু রহম করেন— এরকম আল্লাহর প্রতি সুধারণা থেকে তার রহমত লাভের আশায় কেউ যদি এমনটা করেন, এটা জাস্ট রাব্বুল আলামিনের প্রতি তার একটা চাওয়া। তো আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি রহম করতেও পারেন। সেটাকে আমরা ‘আল্লাহর রহমত হবে না’, এমনটা মাসআলা দিয়ে দিতে পারি না। কারণ, এটা সম্পূর্ণ আল্লাহর সিদ্ধান্ত। তবে এ কথা সত্য যে, আলাদা আলাদা বা মসজিদের পাশে কবর দেওয়া সুন্নাহ নয়।’
ইসলামি স্কলার ড. সাইফুল্লাহ বলেন, মসজিদের কাছে কোনো কবরস্থান হবে না। কবরস্থান হবে মসজিদ থেকে আলাদা। সমাজের অনেকে মনে করেন, মসজিদের কাছে কবর দিলে হয়তো মৃত ব্যক্তি মসজিদের সব ফজিলত পাবেন—জিকির, কেরাতসহ সব ইবাদতের সওয়াব তিনি পাবেন। কিন্তু না, তিনি কিছুই পাবেন না।
আরটিভি/এসআর




