পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এলেই অনেক পরিবারে যেন এক ধরনের অস্থিরতা নেমে আসে। প্রস্তুতি, পড়াশোনা আর উৎকণ্ঠায় কাটে দিন-রাত। এমন আন্তরিক চেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়— যদি তা সঠিক নিয়তে, স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হয়।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, যে পরীক্ষার জন্য মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে— সেই পরীক্ষার জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত? পার্থিব জীবনের সাময়িক পরীক্ষাকে আমরা যত গুরুত্ব দিচ্ছি, তার তুলনায় চূড়ান্ত পরীক্ষা, অর্থাৎ আখিরাতের হিসাব-নিকাশের বিষয়টি অনেকাংশেই আমাদের অগোচরে থেকে যাচ্ছে।
দুনিয়ার পরীক্ষায় নির্দিষ্ট পাঠ্যবই বা বিষয়ের ওপর প্রশ্ন হয়। কিন্তু আখিরাতের পরীক্ষায় মানুষের প্রতিটি কাজের হিসাব নেওয়া হবে। কোরআনে বলা হয়েছে, এমন এক কিতাব পেশ করা হবে, যেখানে ছোট-বড় কোনো কাজই বাদ পড়বে না; সবই লিপিবদ্ধ থাকবে। মানুষ তার প্রতিটি আমল নিজের সামনে দেখতে পাবে, আর আল্লাহতায়ালা কারও প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করবেন না।
পার্থিব পরীক্ষার পরিবেশ সাধারণত নিয়ন্ত্রিত ও স্বস্তিদায়ক। পরীক্ষার হল, নির্দিষ্ট আসন, আরামদায়ক আবহাওয়া— সবকিছুই সুশৃঙ্খল। কিন্তু আখিরাতের পরীক্ষার পরিবেশ হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন— ভয়াবহ ও উদ্বেগপূর্ণ। সেদিন মানুষের অন্তর থাকবে আতঙ্কে কাঁপমান, চারদিকে থাকবে অনিশ্চয়তা ও ভয়।
দুনিয়ার পরীক্ষায় তদারকি করেন মানুষ, যারা ভুল করতে পারেন। কিন্তু আখিরাতের পরীক্ষার তদারকি করবেন স্বয়ং আল্লাহতায়ালা— যিনি সর্বজ্ঞ, সর্বদ্রষ্টা; যার জ্ঞান থেকে কিছুই গোপন নয়।
পার্থিব পরীক্ষায় সাধারণত উত্তীর্ণের সংখ্যাই বেশি থাকে। কিন্তু আখিরাতের পরীক্ষায় সফলতার পথ সংকীর্ণ। সেখানে উত্তীর্ণ হতে পারাই প্রকৃত সাফল্য, যার পুরস্কার জান্নাত। আর ব্যর্থতার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
অতএব, যে ব্যক্তি জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেই-ই প্রকৃত সফল। বস্তুত, এই দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী— এটি এক ধরনের মোহ ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।
আরটিভি/এমএইচজে



