একই স্থানে বাথরুম ও টয়লেট, অজু ও দোয়ার বিধান কী

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:২৮ পিএম


একই স্থানে বাথরুম ও টয়লেট, অজু ও দোয়ার বিধান কী
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হলো শরীর ও স্থান পাক-পবিত্র রাখা। বর্তমান সময়ে আধুনিক আবাসন ব্যবস্থায় সাধারণত একই সাথে টয়লেট ও গোসলখানা (অ্যাটাচড বাথরুম) থাকে। এমন পরিবেশে অজু করা এবং দোয়া পড়ার বিষয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

টয়লেট ও গোসলখানা একই সাথে থাকলে সেখানে অজু করা জায়েজ। তবে এক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কমোড বা প্যান থেকে যেন কোনো নাপাকি ছিটকে গায়ে না লাগে, সেদিকে পূর্ণ খেয়াল রাখতে হবে।

যদি সম্ভব হয়, টয়লেটের অংশটুকু কোনো পর্দা বা বিভাজক দিয়ে আলাদা করে নেওয়া উত্তম। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে কমোডের নির্দিষ্ট অংশটুকু বাদে বাকি জায়গাকে অজু বা গোসলের জন্য ব্যবহার করা যাবে।

টয়লেটের প্যান বা কমোড থেকে একটু দূরে সরে অজু করা শ্রেয়। টয়লেটের ভেতরে আল্লাহর নাম নেওয়া বা দোয়া পড়া অনুচিত। তবে যেখানে টয়লেট ও বেসিন একই সাথে থাকে, সেখানে অজুর দোয়া পড়ার ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামগণ নিম্নোক্ত পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

আরও পড়ুন

টয়লেটের ভেতরে মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে বিসমিল্লাহ এবং অজুর পরের দোয়াগুলো পড়া যাবে। এতে দোয়ার সওয়াব পাওয়া যাবে এবং স্থানের পবিত্রতাও রক্ষা হবে।

যদি স্থানটি কেবল গোসলের জন্য হয় (টয়লেট না থাকে), তবে মুখে দোয়া পড়া যায়। কিন্তু টয়লেট সংযুক্ত থাকলে মুখে আল্লাহর নাম না নেওয়াই আদব।

অজুর শুরু ও শেষে দোয়ার শিক্ষা রয়েছে হাদিসে। অজুর শুরুতে بِسْمِ ٱللَّٰهِ ‘বিসমিল্লাহ’ বলা সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ আমল। কিন্তু টয়লেটে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা সুন্নাহ পরিপন্থী কাজ। কেননা টয়লেট নাপাক স্থান। ওখানে দোয়া-দরুদ, জিকির ইত্যাদি মহান আল্লাহর শান ও মর্যাদার পরিপন্থী। (দেখুন ইবনে মাজাহ: ৩০৩, সহিহ ইবনে হিব্বান: ১৪১৩, মুসনাদে আবু ইয়ালা আলমুসিলি: ৩৫৪৩)

তাই আলেমদের পরামর্শ হলো- টয়লেট ও গোসলখানা একসঙ্গে হলে, দ্রুত আড়ালের ব্যবস্থা করা। অর্থাৎ টয়লেট ও গোসলখানার মাঝখানে পার্টিশন দেওয়া। এতে অজুর দোয়া পড়তে সমস্যা থাকে না, উপরন্তু আল্লাহর নামের মর্যাদা ও পবিত্রতাও রক্ষা হয়। কিন্তু পার্টিশন না থাকলে জায়গা যতবড়ই হোক না কেন, বাথরুম টয়লেটের বাইরের অংশ বিবেচিত হয় না। ফলে ওখানে যেকোনো জায়গায় আল্লাহর নাম নেওয়ার অর্থই হলো টয়লেটে আল্লাহর নাম নেওয়া। তাই আড়াল বা পার্টিশনের ব্যবস্থা করা উত্তম।
 
তবে, তা করতে না পারলে অজু শুদ্ধ হবে। মূলত দোয়া বা জিকিরের জন্য জায়গা পাক করে নেওয়াটাই দায়িত্ব। ফতোয়ার কিতাবে এসেছে, বাথরুমে যদি বেশি পরিমাণ পানি ঢালা হয়, যার ফলে সেখান থেকে নাপাকি দূর হওয়ার ব্যাপারে প্রবল ধারণা হয় তাহলে এর দ্বারা উক্ত এলাকা পাক হয়ে যাবে। (আদ্দুররুল মুখতার: ১/৩৩৩)
 
তখন সেখানে অজু গোসল, দোয়া সবকিছু জায়েজ। যেমন রসুলুল্লাহ (সা.) এক বেদুঈনের মসজিদে প্রস্রাব করার ফলে তাতে পানি ঢালার নির্দেশ দিয়েছিলেন। (বুখারি: ২১৯)
 
তবে সর্তকতা হচ্ছে, টয়লেট, বাথরুমের মাঝখানে পর্দার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত আল্লাহর নামটা মর্যাদার খাতিরে মুখে না নিয়ে মনে মনে নেওয়াকে উত্তম বলেছেন অনেক আলেম। কেউ কেউ বলেছেন, যদি সম্ভব হয় অন্তত অজুর শুরুর অংশটি বাথরুমের বাইরে সম্পন্ন করতে পারলে ভালো। 
  
কারণ আল্লাহর নাম নিতে হয় অজুর শুরুতে। আর বর্তমানের এটাচট বাথরুমগুলোতে মাঝখানে সাধারণত দেয়াল থাকে না, তাই এসব বাথরুমে অযু করার সময় মুখে উচ্চারণ করে দোয়া না করা। তবে মনে মনে দোয়া করা যাবে।

আরটিভি/এমআই

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission