ইসলামী বর্ষপঞ্জির একাদশ মাস জিলকদকে মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও সম্মানিত সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মাসটি ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের একটি। যেখানে যুদ্ধ-বিগ্রহ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে হিজরি মাস শুরু হয়। তাই প্রতিবছর সৌর বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে জিলকদ মাস। মুসলিম উম্মাহর কাছে এই মাস মূলত পবিত্র হজের প্রস্তুতির সময় হিসেবে পরিচিত।
ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী এই মাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
১. ১ জিলকদে ঐতিহাসিক হুদাইবিয়ার সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।
২. ৮ জিলকদে হজ ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হয়।
৩. ২৫ জিলকদে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্মের কথা উল্লেখ পাওয়া যায়।
৪. এছাড়া ইসলামের ইতিহাসে খন্দকের যুদ্ধ, বায়াতুর রিদওয়ান এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রথম ওমরাহ পালনও এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসলামে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চার মাস হলো মহররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ। এর মধ্যে জিলকদকে শান্তির মাস বলা হয়। কারণ এই সময় সব ধরনের যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২১৭ নম্বর আয়াতেও এই চার মাসে যুদ্ধ নিষিদ্ধ থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। ফলে জিলকদ মাসকে সন্ধি ও শান্তির সময় হিসেবে দেখা হয়।
ধর্মীয়ভাবে এই মাসে বেশি বেশি ইবাদত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নফল রোজা, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকারের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বিজের রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, জিলকদ মূলত হজের আগে নিজেকে প্রস্তুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই মাসে শান্তি ও সংযমের শিক্ষা মুসলমানদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। ফলে পরবর্তী মাস জিলহজের বড় ইবাদত হজের জন্য মানসিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি গড়ে তোলে।
আরটিভি/জেএমএ




