আমাদের দেশের অনেক প্রবাসীকে ঈদের দিনগুলোয় বিদেশে অবস্থান করতে হয়। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নানা কারণে তারা দেশে আসতে পারেন না। ঈদুল আজহায় যারা দেশে আসতে পারেন না, তারা আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে দেশে কোরবানি দেন।
প্রশ্ন হলো, বিদেশে অবস্থানকারীর কোরবানি দেশে আদায় করলে হবে কি না? কোরবানিদাতা ও কোরবানির পশু ভিন্ন স্থানে থাকলে কোরবানি হবে?
যাদের ওপর যাকাত ওয়াজিব, তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। এ ক্ষেত্রে কোরবানির দিনগুলো তথা জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে কারও কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।
যাকাতের নিসাবের মতো বছর পার হওয়া আবশ্যক নয়। সে হিসাবে অনেক লোক এমন পাওয়া যাবে, যাদের ওপর যাকাত ওয়াজিব না হলেও কোরবানি ওয়াজিব।
প্রবাসীর পক্ষ থেকে দেশে কোরবানি দেওয়ার বিধান
প্রবাসীর পক্ষ থেকে দেশে কোরবানি দেওয়াতে ইসলামে কোনো বাধা-নিষেধ নেই। তবে প্রবাসীর কোরবানির পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে কোরবানির সময়ের ব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
কোরবানির সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ভোর হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়। তাই এর আগে কোরবানি আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে না। আর ১২ জিলহজের সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোরবানি করা যায়—এরপর কোরবানি শুদ্ধ হয় না।
তাই প্রবাসীর কোরবানির পশু দেশে জবাই করার সময় তিনি যে দেশে বসবাস করছেন, সে দেশের তারিখ ও সময় মেনে কোরবানি করতে হবে। অর্থাৎ প্রবাসীর অবস্থিত দেশের তারিখ অনুযায়ী ১০ জিলহজ ভোরের পরে কোরবানি করতে হবে।
তবে কোরবানি শুদ্ধ হওয়ার জন্য প্রবাসীর ঈদের নামাজ পড়া জরুরি নয়। পশু যে এলাকায় আছে ওই এলাকায় ঈদের জামাত হয়ে গেলে এবং তার দেশে ঈদের দিনের সূর্যোদয় হলে পশু কোরবানি করা যাবে।
সময়ের সমন্বয় যেভাবে করবেন
সাবধানতার জন্য, প্রবাসীর পক্ষ থেকে যে ব্যক্তি দেশে কোরবানি করবেন, তিনি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানকার সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নেবেন।
আরটিভি/এসআর




