কার সঙ্গে ভাগে কোরবানি দেওয়া যাবে না, ইসলামের বিধান কী

আরটিভি নিউজ  

বুধবার, ২০ মে ২০২৬ , ১১:১৪ পিএম


কার সঙ্গে ভাগে কোরবানি দেওয়া যাবে না, ইসলামের বিধান কী
ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির ঈদের আর বেশিদিন বাকি নেই। চলতি মে মাসের ২৮ তারিখ দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে এই সামর্থ্যের পরিমাপ এবং ভাগে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধান রয়েছে, যা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

অনেকেই একা একটি পুরো পশু কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন না। তারা সাধারণত ভাগে বা শরিকে কোরবানি দিয়ে থাকেন। অনেক সময় পরিবারের ভাই-বোনেরা মিলে কিংবা এলাকার কয়েকজন মিলে একটি পশু কিনে কোরবানি করেন। তবে যাদের সঙ্গে ভাগে কোরবানি দেওয়া হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য ও আয়ের উৎস সঠিক না হলে কোরবানি কবুল হওয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দিয়ে কেবল একজনই কোরবানি দিতে পারবেন। এ ধরনের পশিতে একাধিক ব্যক্তি মিলে শরিক হলে কারও কোরবানিই সহিহ হবে না।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে উট, গরু ও মহিষে সর্বোচ্চ সাতজন ব্যক্তি শরিক হতে পারবেন। সাতের অধিক শরিক হলে কারও কোরবানি শুদ্ধ হবে না। তবে সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা, যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ বা ছয় ভাগে কোরবানি করা সম্পূর্ণ জায়েজ। 

সহিহ মুসলিম শরিফে হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, ‘আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে হজ করেছি, তখন আমরা সাতজন একটি উট এবং একটি গরুতে শরিক হয়ে কোরবানি করেছি।’

ভাগে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অংশীদার বা শরিক নির্বাচন। অংশীদারদের মধ্যে কেউ যদি আল্লাহর হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কোরবানি না করে কেবল লোকদেখানো কিংবা শুধু গোশত খাওয়ার নিয়ত করেন, তবে তার কোরবানি শুদ্ধ হবে না। একই সঙ্গে ওই পশুর অন্য শরিকদের কোরবানিও নষ্ট হয়ে যাবে। তাই অংশীজন নির্বাচনের সময় তাদের নিয়ত এবং আয়ের উৎস হালাল কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা উচিত।

অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা আছে যে, যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তারা কোরবানি করতে পারবেন না। এই ধারণা সম্পূর্ণ অমূলক। সামর্থ্য না থাকার পরও কেউ কোরবানি করলে তিনি নফল কোরবানির অধিক সওয়াব পাবেন।

ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী, নিজের পক্ষ থেকে কোরবানি করা ওয়াজিব হলেও সন্তানের পক্ষ থেকে পিতার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব নয়। তবে কোনো পিতা যদি নিজের অর্থ দিয়ে নাবালক সন্তানের পক্ষ থেকে কোরবানি করেন, তবে তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত কামনায় তার পক্ষ থেকেও কোরবানি করা জায়েজ।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission