ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ইসলামে ধর্ষণ ও ব্যভিচারের ভয়াবহ শাস্তি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১১:০১ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে ধর্ষণ ও ব্যভিচারকে মানবসমাজের জন্য ভয়াবহ, জঘন্য ও ধ্বংসাত্মক অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত পাপ নয়, বরং নৈতিকতা, পরিবারব্যবস্থা ও সামাজিক শৃঙ্খলা ধ্বংসকারী গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا

“তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় তা অশ্লীল ও খুবই খারাপ পথ।” (সূরা বনী ইসরাইল: ৩২)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট, ইসলাম শুধু ব্যভিচারকেই নয়, বরং তার দিকে নিয়ে যায় এমন সব পথও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

হাদিসে এসেছে—

“চোখের ব্যভিচার হলো দেখা, কানের ব্যভিচার হলো শোনা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো বলা, হাতের ব্যভিচার হলো ধরা, পায়ের ব্যভিচার হলো হাঁটা…” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৫৭)

ব্যভিচার ও ধর্ষণের অবস্থান

ইসলামে ব্যভিচারকে বড় গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ককে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যভিচারী পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই শরিয়তে নির্ধারিত শাস্তির বিধান রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে—

“ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশ বেত্রাঘাত করো।” (সূরা নূর: ২)

ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি অবিবাহিত ও বিবাহিতদের ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে নির্ধারিত। হাদিসে এসেছে, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে এবং অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে বেত্রাঘাতের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সমাজ থেকে দূরে রাখার বিধান রয়েছে।

ধর্ষণ সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ইসলামে ধর্ষণকে জুলুম ও ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে দেখা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না; শাস্তি শুধু অপরাধীর জন্য নির্ধারিত।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর যুগে এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি, বরং ধর্ষককে হদের শাস্তি দেওয়া হয়। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৫৯৮)

উল্লেখ্য, যেসব শাস্তির পরিমাণ ও পদ্ধতি কোরআন-হাদিসে সুনির্ধারিত রয়েছে, সেগুলোকে হদ বলে।

আরও পড়ুন

অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, গনিমতের সম্পদ থেকে প্রাপ্ত এক দাসীর সঙ্গে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এক দাস জোরপূর্বক ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, যার ফলে ওই দাসীর কুমারীত্ব নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনায় হযরত উমর (রা.) ওই দাসকে শাস্তি হিসেবে বেত্রাঘাত করেন এবং তাকে নির্বাসন দেন। তবে যেহেতু দাসীকে জোরপূর্বক বাধ্য করা হয়েছিল, তাই তাকে কোনো শাস্তি প্রদান করা হয়নি। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৯৪৯)

ধর্ষণের শাস্তি সম্পর্কে ইসলামি ব্যাখ্যা

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী ধর্ষণ দুই ধরনের অপরাধকে একত্র করে—

একটি হলো ব্যভিচার, অন্যটি হলো জোর-জবরদস্তি ও ভয়ভীতি সৃষ্টি।

সহিংসতার অংশের জন্য আল্লাহ তায়ালা বলেন—

“যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, তাদের শাস্তি হলো হত্যা, শূলিতে চড়ানো, হাত-পা কেটে দেওয়া অথবা দেশান্তর।” (সুরা মায়িদা: ৩৩)

ইসলামের মূল অবস্থান

ইসলামে ব্যভিচার ও ধর্ষণ উভয়ই গুরুতর কবিরা গুনাহ। তবে ধর্ষণের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী সম্পূর্ণ নির্দোষ, শাস্তি কেবল অপরাধীর জন্য নির্ধারিত।

ইসলামের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে পবিত্রতা, নিরাপত্তা ও নৈতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মান ও অধিকার রক্ষা করা।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
রাজধানীর দক্ষিণখান কেন্দ্রীয় কবরস্থান সংলগ্ন মধুবাগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বৃহৎ ‘ঈসালে সওয়াব মাহফিল’। আগামী ২২ নভেম্বর (রোববার) এই মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে বয়ান করবেন পাকিস্তানের বিখ্যাত আলেম মাওলানা মুহাম্মদ হানিফ জালান্ধরি। মাহফিল পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দক্ষিণখান কেন্দ্রীয় কবরস্থান (ওয়ার্ড-৪৮, মধুবাগ, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০) প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।  উক্ত অনুষ্ঠানে মাগরিব নামাজের পর প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করবেন মাওলানা কারি মুহাম্মদ হানিফ জালান্ধরি। এছাড়া মাহফিলে বিশেষ আলোচক হিসেবে বাদ আছর বয়ান করবেন জাগ্রত কবি মাওলানা মুহিব খান। সকাল ১০টা থেকেই দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামের দ্বীনি আলোচনা শুরু হবে।    আয়োজকদের পক্ষ থেকে মুফতি বখতিয়ার হোসাইন সরদার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাহফিলে উপস্থিত হয়ে আখিরাতের সওয়াব হাসিল এবং মৃত স্বজনদের ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশে কুরআন শরিফ ও কালিমার খতম পাঠ করে দোয়ায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।  আরটিভি/এসআর  
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে (Astronomical calculations Ramadan start date 2027)। 
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- 
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় থেকে সৌদি সরকারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
আরও পড়ুন
‘বিশেষ ক্ষমতায়’ নারীদের বশ করেন কবিরাজ, এরপর শারীরিক সম্পর্ক!
‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’ প্রবাদের সত্যতা প্রমাণ হলো পঞ্চগড়ে
মৃত্যুর আগে ধর্ষণকারীদের নাম বলে গেল সেই স্কুলছাত্রী
স্কুলের পরিত্যক্ত কক্ষের পর নারীকে সুপারি বাগানে নিয়ে যান রিফাত, অতঃপর...