ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কুরআন ও হাদীসের আলোকে ব্যভিচারের চূড়ান্ত শাস্তি

আরর্টিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
ব্যভিচারের ভয়াবহ পরিণতি, কুরআন ও সহীহ হাদীসে কঠোর সতর্কবার্তা । ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে ব্যভিচারকে একটি মারাত্মক ও গুরুতর পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কুরআন ও সহীহ হাদীসে এ বিষয়ে কঠোর শাস্তি ও ভয়াবহ পরিণতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তি ধ্বংসকারী এক ভয়ংকর পাপ হিসেবে বিবেচিত।

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেন—

﴿ٱلزَّانِيَةُ وَٱلزَّانِي فَٱجْلِدُوا كُلَّ وَٰحِدٖ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٖۖ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٞ فِي دِينِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْآخِرِۖ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٞ مِّنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ﴾
(সূরা আন-নূর, আয়াত ২)

অর্থ: ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশটি বেত্রাঘাত করবে। আল্লাহর বিধান কার্যকর করতে তাদের প্রতি কোনো দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাকো। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।

সহীহ হাদীস অনুযায়ী, অবিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি একশটি বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর। আর বিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি হলো “রজম” অর্থাৎ পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড।

আরও পড়ুন

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—

«خُذُوا عَنِّي خُذُوا عَنِّي قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا الْبِكْرُ بِالْبِكْرِ جَلْدُ مِائَةٍ وَنَفْيُ سَنَةٍ وَالثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ جَلْدُ مِائَةٍ وَالرَّجْمُ»
(সহীহ মুসলিম)

অর্থ: তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ করো। অবিবাহিতদের শাস্তি একশ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন, আর বিবাহিতদের শাস্তি একশ বেত্রাঘাত ও রজম।

ইসলামী ইতিহাসে আরও বহু হাদীসে ব্যভিচারের কঠোর শাস্তি এবং এর ভয়াবহতা বর্ণিত হয়েছে। একই সঙ্গে তওবার দরজা খোলা রাখা হয়েছে, তবে শর্ত হলো—সত্যিকারের অনুশোচনা ও আল্লাহর কাছে ফিরে আসা।

হাদীসে আরও এসেছে—

«الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ»
(সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)

অর্থ: সন্তান বৈধ স্বামীর জন্য, আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে কেবল শাস্তি।

ইসলামে ব্যভিচার শুধু শাস্তিযোগ্য অপরাধই নয়, বরং এটি থেকে দূরে থাকার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি অন্যের দোষ গোপন রাখা, ব্যক্তিগতভাবে উপদেশ দেওয়া এবং সমাজে অশ্লীলতা ছড়ানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশও এসেছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—

«مَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ»
(সহীহ মুসলিম)

অর্থ: যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তার দোষ দুনিয়া ও আখিরাতে গোপন রাখেন।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, ব্যভিচারের শাস্তি প্রয়োগের উদ্দেশ্য হলো সমাজে পবিত্রতা রক্ষা করা, অনৈতিকতা বন্ধ করা এবং মানুষকে পাপ থেকে বিরত রাখা। শাস্তি কার্যকর হলে তা অপরাধীর জন্যই আখিরাতের কাফফারা হিসেবে গণ্য হয়—এমন কথাও হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।

ইসলামী আলেমদের মতে, কুরআন ও সহীহ হাদীসের এসব বিধান মূলত সমাজকে নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক ভাঙন এবং মানবিক মূল্যবোধের ধ্বংস থেকে রক্ষা করার জন্যই এসেছে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে রয়েছে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ৮২ বার বলা হয়েছে। তাই দৈনিক  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে এলো সে বিষয়ে জানবো।
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আজান দেওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নামাজের প্রতি আহ্বান জানাতে মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে থাকেন।
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
আরও পড়ুন
ইসলামে ধর্ষণ ও ব্যভিচারের ভয়াবহ শাস্তি