ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

কুরআন ও হাদীসের আলোকে ব্যভিচারের চূড়ান্ত শাস্তি

আরর্টিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
ব্যভিচারের ভয়াবহ পরিণতি, কুরআন ও সহীহ হাদীসে কঠোর সতর্কবার্তা । ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে ব্যভিচারকে একটি মারাত্মক ও গুরুতর পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কুরআন ও সহীহ হাদীসে এ বিষয়ে কঠোর শাস্তি ও ভয়াবহ পরিণতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তি ধ্বংসকারী এক ভয়ংকর পাপ হিসেবে বিবেচিত।

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেন—

﴿ٱلزَّانِيَةُ وَٱلزَّانِي فَٱجْلِدُوا كُلَّ وَٰحِدٖ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٖۖ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٞ فِي دِينِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْآخِرِۖ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٞ مِّنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ﴾
(সূরা আন-নূর, আয়াত ২)

অর্থ: ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশটি বেত্রাঘাত করবে। আল্লাহর বিধান কার্যকর করতে তাদের প্রতি কোনো দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাকো। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।

সহীহ হাদীস অনুযায়ী, অবিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি একশটি বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর। আর বিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি হলো “রজম” অর্থাৎ পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড।

আরও পড়ুন

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—

«خُذُوا عَنِّي خُذُوا عَنِّي قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا الْبِكْرُ بِالْبِكْرِ جَلْدُ مِائَةٍ وَنَفْيُ سَنَةٍ وَالثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ جَلْدُ مِائَةٍ وَالرَّجْمُ»
(সহীহ মুসলিম)

অর্থ: তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ করো। অবিবাহিতদের শাস্তি একশ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন, আর বিবাহিতদের শাস্তি একশ বেত্রাঘাত ও রজম।

ইসলামী ইতিহাসে আরও বহু হাদীসে ব্যভিচারের কঠোর শাস্তি এবং এর ভয়াবহতা বর্ণিত হয়েছে। একই সঙ্গে তওবার দরজা খোলা রাখা হয়েছে, তবে শর্ত হলো—সত্যিকারের অনুশোচনা ও আল্লাহর কাছে ফিরে আসা।

হাদীসে আরও এসেছে—

«الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ»
(সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)

অর্থ: সন্তান বৈধ স্বামীর জন্য, আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে কেবল শাস্তি।

ইসলামে ব্যভিচার শুধু শাস্তিযোগ্য অপরাধই নয়, বরং এটি থেকে দূরে থাকার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি অন্যের দোষ গোপন রাখা, ব্যক্তিগতভাবে উপদেশ দেওয়া এবং সমাজে অশ্লীলতা ছড়ানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশও এসেছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—

«مَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ»
(সহীহ মুসলিম)

অর্থ: যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তার দোষ দুনিয়া ও আখিরাতে গোপন রাখেন।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, ব্যভিচারের শাস্তি প্রয়োগের উদ্দেশ্য হলো সমাজে পবিত্রতা রক্ষা করা, অনৈতিকতা বন্ধ করা এবং মানুষকে পাপ থেকে বিরত রাখা। শাস্তি কার্যকর হলে তা অপরাধীর জন্যই আখিরাতের কাফফারা হিসেবে গণ্য হয়—এমন কথাও হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।

ইসলামী আলেমদের মতে, কুরআন ও সহীহ হাদীসের এসব বিধান মূলত সমাজকে নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক ভাঙন এবং মানবিক মূল্যবোধের ধ্বংস থেকে রক্ষা করার জন্যই এসেছে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
রাজধানীর দক্ষিণখান কেন্দ্রীয় কবরস্থান সংলগ্ন মধুবাগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বৃহৎ ‘ঈসালে সওয়াব মাহফিল’। আগামী ২২ নভেম্বর (রোববার) এই মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে বয়ান করবেন পাকিস্তানের বিখ্যাত আলেম মাওলানা মুহাম্মদ হানিফ জালান্ধরি। মাহফিল পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দক্ষিণখান কেন্দ্রীয় কবরস্থান (ওয়ার্ড-৪৮, মধুবাগ, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০) প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।  উক্ত অনুষ্ঠানে মাগরিব নামাজের পর প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করবেন মাওলানা কারি মুহাম্মদ হানিফ জালান্ধরি। এছাড়া মাহফিলে বিশেষ আলোচক হিসেবে বাদ আছর বয়ান করবেন জাগ্রত কবি মাওলানা মুহিব খান। সকাল ১০টা থেকেই দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামের দ্বীনি আলোচনা শুরু হবে।    আয়োজকদের পক্ষ থেকে মুফতি বখতিয়ার হোসাইন সরদার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাহফিলে উপস্থিত হয়ে আখিরাতের সওয়াব হাসিল এবং মৃত স্বজনদের ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশে কুরআন শরিফ ও কালিমার খতম পাঠ করে দোয়ায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।  আরটিভি/এসআর  
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে (Astronomical calculations Ramadan start date 2027)। 
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- 
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় থেকে সৌদি সরকারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
আরও পড়ুন
ইসলামে ধর্ষণ ও ব্যভিচারের ভয়াবহ শাস্তি