ইসলামে ব্যভিচারকে একটি মারাত্মক ও গুরুতর পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কুরআন ও সহীহ হাদীসে এ বিষয়ে কঠোর শাস্তি ও ভয়াবহ পরিণতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তি ধ্বংসকারী এক ভয়ংকর পাপ হিসেবে বিবেচিত।
আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেন—
﴿ٱلزَّانِيَةُ وَٱلزَّانِي فَٱجْلِدُوا كُلَّ وَٰحِدٖ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٖۖ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٞ فِي دِينِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْآخِرِۖ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٞ مِّنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ﴾
(সূরা আন-নূর, আয়াত ২)
অর্থ: ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশটি বেত্রাঘাত করবে। আল্লাহর বিধান কার্যকর করতে তাদের প্রতি কোনো দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাকো। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
সহীহ হাদীস অনুযায়ী, অবিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি একশটি বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর। আর বিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি হলো “রজম” অর্থাৎ পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
«خُذُوا عَنِّي خُذُوا عَنِّي قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا الْبِكْرُ بِالْبِكْرِ جَلْدُ مِائَةٍ وَنَفْيُ سَنَةٍ وَالثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ جَلْدُ مِائَةٍ وَالرَّجْمُ»
(সহীহ মুসলিম)
অর্থ: তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ করো। অবিবাহিতদের শাস্তি একশ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন, আর বিবাহিতদের শাস্তি একশ বেত্রাঘাত ও রজম।
ইসলামী ইতিহাসে আরও বহু হাদীসে ব্যভিচারের কঠোর শাস্তি এবং এর ভয়াবহতা বর্ণিত হয়েছে। একই সঙ্গে তওবার দরজা খোলা রাখা হয়েছে, তবে শর্ত হলো—সত্যিকারের অনুশোচনা ও আল্লাহর কাছে ফিরে আসা।
হাদীসে আরও এসেছে—
«الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ»
(সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
অর্থ: সন্তান বৈধ স্বামীর জন্য, আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে কেবল শাস্তি।
ইসলামে ব্যভিচার শুধু শাস্তিযোগ্য অপরাধই নয়, বরং এটি থেকে দূরে থাকার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি অন্যের দোষ গোপন রাখা, ব্যক্তিগতভাবে উপদেশ দেওয়া এবং সমাজে অশ্লীলতা ছড়ানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশও এসেছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
«مَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ»
(সহীহ মুসলিম)
অর্থ: যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তার দোষ দুনিয়া ও আখিরাতে গোপন রাখেন।
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, ব্যভিচারের শাস্তি প্রয়োগের উদ্দেশ্য হলো সমাজে পবিত্রতা রক্ষা করা, অনৈতিকতা বন্ধ করা এবং মানুষকে পাপ থেকে বিরত রাখা। শাস্তি কার্যকর হলে তা অপরাধীর জন্যই আখিরাতের কাফফারা হিসেবে গণ্য হয়—এমন কথাও হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।
ইসলামী আলেমদের মতে, কুরআন ও সহীহ হাদীসের এসব বিধান মূলত সমাজকে নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক ভাঙন এবং মানবিক মূল্যবোধের ধ্বংস থেকে রক্ষা করার জন্যই এসেছে।
আরটিভি/জেএমএ



