ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

পবিত্র কাবার গিলাফে ক্যালিগ্রাফির নেপথ্যে এক বাংলাদেশি 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবছর পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনকালে লাখ লাখ মুসলমান মক্কার মাসজিদুল হারামে কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন। তাওয়াফকালে কাবা শরিফের ওপর জড়ানো সোনা ও রুপার সুতোয় বোনা কালো কাপড়ের গিলাফটির (কিসওয়া) দিকে অপলক তাকিয়ে থাকেন ধর্মপ্রাণ মানুষেরা। কাবার গিলাফে খোদাই করা এই পবিত্র কোরআনের আয়াত ও ক্যালিগ্রাফির পেছনের মূল রূপকার হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুখতার আলম সিকদার। ২০০২ সাল থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এই গুণী শিল্পীকে তার অসামান্য দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি সৌদি আরবের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে।

মুখতার আলমের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার রশিদের ঘোনা গ্রামে। তার বাবা মফিজুর রহমান বিন ইসমাইল সিকদার। তবে মুখতার আলমের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সৌদি আরবেই। শৈশব থেকেই আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি তার ছিল প্রবল ঝোঁক ও অনুরাগ।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুখতার আলম সিকদার

শিক্ষাজীবনে মুখতার আলম মক্কার বিখ্যাত উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে চারুকলা শিক্ষায় স্নাতক এবং ২০০১ সালে ক্যালিগ্রাফি বিষয়ে বিশেষায়িত হয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা শিক্ষা বিভাগে ক্যালিগ্রাফির শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

যেভাবে ক্যালিগ্রাফার হলেন

১৪২২ হিজরিতে জেদ্দার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মদ সালেম বাজনাইদের সঙ্গে মুখতার আলমের সাক্ষাৎ হয়। আলমের অসাধারণ কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে বাজনাইদ তার জীবনবৃত্তান্ত ও কাজের নমুনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (প্রেসিডেন্সি) কাছে পাঠান। এরপর উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার মাধ্যমে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে জমাদিউল আউয়াল ১৪২৩ হিজরিতে (জুলাই ২০০২) মক্কার কিসওয়া কারখানার প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে নিযুক্ত হন মুখতার আলম।

আরও পড়ুন

কিসওয়ার ক্যালিগ্রাফিতে মূলত ‘থুলুথ’ লিপি ব্যবহার করা হয়, যার মূল নকশাকার ছিলেন শেখ আব্দুল রহিম আমিন বুখারী। মুখতার আলম এই মূল নকশায় কোনো পরিবর্তন না এনে এর পরিমাপ, অক্ষরের আকার, লিপির চওড়াভাব এবং সূক্ষ্মতায় দারুণ কিছু আধুনিক পরিমার্জন ঘটান। কিসওয়ার বৃত্ত, চতুর্ভুজ ও ফ্রেমগুলোর মধ্যকার অনুপাত নিখুঁত করার পাশাপাশি কাবার দরজার পর্দা ও চারপাশের ফ্রেমের আলংকারিক নকশাকে তিনি আরও আকর্ষণীয় করে তোলেন। শুধু তা-ই নয়, এই ঐতিহ্যবাহী কাজে নিখুঁত ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি একটি বিশেষায়িত ইলেকট্রনিক ক্যালিগ্রাফি প্রোগ্রাম বা ডিজিটাল প্রযুক্তি চালু করেন।

কেবল ক্যালিগ্রাফির মধ্যেই মুখতার আলমের কাজ সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৮০ সালে তিনি মক্কার ‘চ্যারিটেবল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য মেমোরাইজেশন অব দ্য হোলি কুরআন’-এ যোগ দিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর শিক্ষকতা করেন। এ ছাড়া মাসজিদুল হারামের ভেতরে অবস্থিত ‘দার আল-আরকাম ইনস্টিটিউট’-এ তিন বছর শিক্ষকতা করেছেন। ২০০২ এবং ২০১১ সালে তিনি পবিত্র কুরআনের ওপর দুটি ‘ইজাজাহ’ (সনদ) লাভ করেন।

তিনি মক্কার কুরআন মুখস্থকরণ সংস্থার তত্ত্বাবধায়ক, জেদ্দার হ্যান্ডস ক্রাফট অ্যাসোসিয়েশনের আরবি ক্যালিগ্রাফি উপদেষ্টা, জেদ্দা আরবি ক্যালিগ্রাফি সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা এবং সৌদি সায়েন্টিফিক সোসাইটি ফর অ্যারাবিক ক্যালিগ্রাফির একজন সম্মানিত সদস্য। ১৯৮৯ সালে তুরস্কে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক আরবি ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতায় তিনি ফার্সি ক্যালিগ্রাফির জন্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলের শীর্ষ দায়িত্বে ছিলেন।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য প্রতিভাবান ও দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার এক বিশেষ রাজকীয় ডিক্রির অধীনে মুখতার আলমকে সৌদি আরবের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। এই গৌরবময় অর্জনের পর মক্কার মাসজিদুল হারামের (গ্র্যান্ড মস্ক) প্রধান ইমাম তার সম্মানে একটি জমকালো সংবর্ধনা সভার আয়োজন করেন এবং তার হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে (Astronomical calculations Ramadan start date 2027)। 
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- 
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় থেকে সৌদি সরকারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
আজকের নামাজের সময়সূচি
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
বিড়ি খেলে কি অজু ভেঙে যায়
অজুর পর বিড়ি বা সিগারেট খেলে কি অজু ভেঙে যায়? নাকি সেই অজুতেই নামাজ আদায় ও পবিত্র কোরআন স্পর্শ করা যাবে? শরিয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান ও মাসআলা রয়েছে।
বিড়ি খেলে কি অজু ভেঙে যায়
আরও পড়ুন
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সরকারের অবস্থান জানালেন শামা ওবায়েদ
সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারের জরুরি বার্তা
আমিরাতের সড়কে প্রাণ হারালেন ২ বাংলাদেশি
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস-বিডিএসে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান