বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক না হলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে এতে কি বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায়? ইসলামী শরিয়তের আলোকে এর উত্তর হলো, না। কেবল সহবাস না করা বা দীর্ঘদিন আলাদা থাকা বিয়ে বাতিল হওয়ার কারণ নয়।
ইসলামে বিয়ে একটি বৈধ সামাজিক ও ধর্মীয় চুক্তি। এর মাধ্যমে নারী-পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য শরিয়তে কয়েকটি মৌলিক শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈধ পাত্র-পাত্রীর নির্বাচন, উভয় পক্ষের প্রস্তাব ও সম্মতি (ইজাব-কবুল) এবং দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতি। এসব শর্তের কোনোটি পূরণ না হলে বিয়ে শুদ্ধ হয় না।
তবে একবার এসব শর্ত পূরণ করে বিয়ে সম্পন্ন হলে, তালাক বা শরিয়তসম্মত অন্য কোনো কারণে তা বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে বহাল থাকে। স্বামী-স্ত্রী কোনো কারণে সহবাস না করলেও বা আলাদা বসবাস করলেও বিয়ে বাতিল হয়ে যায় না। পরবর্তীতে যখনই তাদের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ বা সহবাসের সুযোগ সৃষ্টি হবে, তা বৈধ ও জায়েজ।
এদিকে, ইসলামী ফিকহে ‘কুফু’ বা সমতা বিয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো মেয়ে অভিভাবকের অজান্তে এমন ব্যক্তিকে বিয়ে করেন, যিনি কুফুর অন্তর্ভুক্ত নন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ইসলামী আইন অনুযায়ী মেয়ের অভিভাবক, বিশেষ করে বাবা, নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সেই বিয়ের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর বা তা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার অধিকার রাখতে পারেন।
কুফু বলতে এমন সামঞ্জস্যকে বোঝায়, যা দাম্পত্য জীবনে স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে সহায়ক। ধর্মীয় পরিচয়, চরিত্র, সামাজিক মর্যাদা এবং আর্থিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসে। উদাহরণস্বরূপ, মুসলিম নারীর সঙ্গে অমুসলিম পুরুষের বিয়ে বৈধ নয়। একইভাবে, চরম বৈষম্যমূলক সামাজিক বা আর্থিক অবস্থানও অনেক ফকিহের মতে কুফুর পরিপন্থী হতে পারে, যদি তা ভবিষ্যতে দাম্পত্য জীবনে গুরুতর বিরোধের কারণ হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
তবে মেয়ে যদি কুফুর মধ্যে বিয়ে করেন এবং শরিয়তের অন্যান্য শর্তও পূরণ হয়, তাহলে শুধুমাত্র অভিভাবকের অসন্তুষ্টির কারণে সেই বিয়ে বাতিল করার অধিকার থাকে না।
এসব বিবেচনায় বিয়ে ভেঙে দিতে পারেন মেয়ের অভিভাবক, যদি তার অজান্তে মেয়ে বিয়ে করে থাকেন। (সূত্র- মুয়াত্তা মালেক: ২০৪০; হেদায়া, কিতাবুত তালাক: ২/৪০২; দুররুল মুখতার মাআ রদ্দুল মুহতার: ৫/৩০৬)
আরটিভি/এসকে




