ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

বন্যা-ঝড়-অতিবৃষ্টিতে ইসলামের জরুরি নির্দেশনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
বন্যা-ঝড়-অতিবৃষ্টিতে ইসলামের জরুরি নির্দেশনা । ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, ঝড় ও বজ্রপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এমন কঠিন সময়ে একজন মুসলমানের করণীয় কী—এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে, সবই মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও প্রজ্ঞার অধীন। তাই কোনো দুর্যোগকে শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর নির্ধারণ ও পরীক্ষার অংশ হিসেবেও দেখা উচিত।

মহান আল্লাহ বলেন—

مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ

অর্থ: "পৃথিবীতে কিংবা তোমাদের নিজেদের ওপর যে বিপদই আসে, তা আমি সৃষ্টি করার আগেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।"
(সুরা আল-হাদিদ, আয়াত: ২২)

আরও পড়ুন

দুর্যোগ মুমিনের জন্য পরীক্ষা

আল্লাহ তাআলা কখনো ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনের ক্ষতির মাধ্যমে বান্দার ঈমান ও ধৈর্যের পরীক্ষা নেন।

তিনি বলেন—

وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ

অর্থ: "আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করব। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।"
(সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৫)

কখনো সতর্কবার্তা, কখনো শিক্ষা

কোরআনে এসেছে, মানুষের গুনাহ ও অন্যায়ের কারণেও পৃথিবীতে নানা বিপর্যয় দেখা দেয়, যাতে মানুষ আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।

আল্লাহ বলেন—

ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ

অর্থ: "স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের কৃতকর্মের কারণে, যাতে আল্লাহ তাদের কিছু কর্মের স্বাদ আস্বাদন করান; হয়তো তারা ফিরে আসবে।"
(সুরা আর-রূম, আয়াত: ৪১)

তবে কোনো নির্দিষ্ট বন্যা বা দুর্যোগকে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর শাস্তি বলা ঠিক নয়। এর প্রকৃত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে।

বৃষ্টি আল্লাহর রহমত

কোরআনে বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত বলা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন—

وَهُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ الْغَيْثَ مِنْ بَعْدِ مَا قَنَطُوا وَيَنْشُرُ رَحْمَتَهُ

অর্থ: "তিনিই মানুষের নিরাশ হওয়ার পর বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন।"
(সুরা আশ-শুরা, আয়াত: ২৮)

বৃষ্টি হলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই দোয়া পড়তেন—

اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا

অর্থ: "হে আল্লাহ! এই বৃষ্টিকে উপকারী বৃষ্টি বানিয়ে দিন।"
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৩২)

দুর্যোগের সময় মুসলমানের করণীয়:

ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসা

বিপদে ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

আল্লাহ বলেন—

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ

অর্থ: "নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই এবং নিশ্চয়ই তাঁরই কাছে ফিরে যাব।"
(সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৬)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

"মুমিনের প্রতিটি অবস্থাই কল্যাণকর। সুখে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, আর দুঃখে ধৈর্য ধারণ করে—উভয় অবস্থাতেই তার কল্যাণ হয়।"
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৯)

ঝড়-তুফানের সময় যে দোয়া পড়বেন

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রবল বাতাসের সময় পড়তেন—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ

অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এই বাতাসের কল্যাণ, এর মধ্যে থাকা কল্যাণ এবং যে উদ্দেশ্যে একে পাঠানো হয়েছে তার কল্যাণ চাই। আর এর অকল্যাণ, এর মধ্যে থাকা অকল্যাণ এবং যে উদ্দেশ্যে একে পাঠানো হয়েছে তার অকল্যাণ থেকে আপনার আশ্রয় চাই।"
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৯৯)

অতিবৃষ্টিতে যে দোয়া পড়তেন

অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কষ্ট হলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পড়তেন—

اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا، اللَّهُمَّ عَلَى الْآكَامِ وَالظِّرَابِ وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ

অর্থ: "হে আল্লাহ! আমাদের ওপর নয়, আমাদের চারপাশে বৃষ্টি বর্ষণ করুন। পাহাড়, টিলা, উপত্যকা ও গাছপালা জন্মায় এমন স্থানে বৃষ্টি দিন।"
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৯৭)

গুজব থেকে দূরে থাকার নির্দেশ

দুর্যোগের সময় ভুয়া খবর বা গুজব ছড়িয়ে দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়।

আল্লাহ বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا

অর্থ: "হে ঈমানদারগণ! কোনো পাপাচারী ব্যক্তি যদি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা ভালোভাবে যাচাই করে নাও।"
(সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৬)

সতর্কতা গ্রহণও সুন্নত

ইসলাম শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করতে বলেনি, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিতে বলেছে। তাই বন্যার আশঙ্কা দেখা দিলে নিরাপদ স্থানে যাওয়া, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি জিনিসপত্র প্রস্তুত রাখা ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

"প্রথমে উটটি বেঁধে রাখ, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা কর।"
(জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৫১৭)

দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বড় ইবাদত

বন্যাকবলিত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

"যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের একটি দুনিয়াবি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করে দেবেন।"
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)

রাষ্ট্রের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ

ইসলাম শাসকদের ওপরও মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করেছে। তাই নদী ও খাল খনন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, জলাবদ্ধতা দূর করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

"তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেককে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। শাসক জনগণের অভিভাবক, আর তাকে তার জনগণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।"
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮২৯)

বন্যা, ঝড় ও অতিবৃষ্টি একজন মুসলমানের জন্য ধৈর্য, দোয়া, তাওবা এবং আল্লাহর ওপর ভরসার সময়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ, গুজব থেকে দূরে থাকা এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা মেনে চললে দুর্যোগের সময়ও একজন মুমিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ লাভ করতে পারেন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের নামাজের সময়সূচি
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
রাজধানীর দক্ষিণখান কেন্দ্রীয় কবরস্থান সংলগ্ন মধুবাগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বৃহৎ ‘ঈসালে সওয়াব মাহফিল’। আগামী ২২ নভেম্বর (রোববার) এই মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে বয়ান করবেন পাকিস্তানের বিখ্যাত আলেম মাওলানা মুহাম্মদ হানিফ জালান্ধরি। মাহফিল পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দক্ষিণখান কেন্দ্রীয় কবরস্থান (ওয়ার্ড-৪৮, মধুবাগ, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০) প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।  উক্ত অনুষ্ঠানে মাগরিব নামাজের পর প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করবেন মাওলানা কারি মুহাম্মদ হানিফ জালান্ধরি। এছাড়া মাহফিলে বিশেষ আলোচক হিসেবে বাদ আছর বয়ান করবেন জাগ্রত কবি মাওলানা মুহিব খান। সকাল ১০টা থেকেই দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামের দ্বীনি আলোচনা শুরু হবে।    আয়োজকদের পক্ষ থেকে মুফতি বখতিয়ার হোসাইন সরদার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাহফিলে উপস্থিত হয়ে আখিরাতের সওয়াব হাসিল এবং মৃত স্বজনদের ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশে কুরআন শরিফ ও কালিমার খতম পাঠ করে দোয়ায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।  আরটিভি/এসআর  
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে (Astronomical calculations Ramadan start date 2027)। 
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- 
আজকের নামাজের সময়সূচি
আরও পড়ুন
ভারী বৃষ্টিতে ফ্লোরিডায় বন্যা, পানিতে ডুবল সড়ক-গাড়ি
থাইল্যান্ডে হঠাৎ বন্যায় পানিবন্দি শতাধিক পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্যা, ঘরছাড়া শত শত পরিবার
বন্যার পানিতে বিপর্যস্ত চার রাজ্য, ছাদ থেকে উদ্ধার মানুষ