জিন কি মানুষের রূপ ধারণ করতে পারে—এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই থাকে। এ বিষয়ে বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেছেন, ইসলামে জিনের অস্তিত্ব স্বীকৃত হলেও ভূত নামে প্রচলিত ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা আছে যে, মৃত্যুর পর খারাপ মানুষের আত্মা ভূত হয়ে যায়। কিন্তু ইসলাম এ বিশ্বাস সমর্থন করে না। এটি ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণা।
তিনি বলেন, জিন আল্লাহর সৃষ্টি। যেমন মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি, তেমনি জিনও তাঁরই সৃষ্টি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তিনি জিনকে সৃষ্টি করেছেন ধোঁয়াবিহীন আগুনের শিখা থেকে।’ (সুরা আর-রহমান, আয়াত: ১৫)
ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ আরও বলেন, জিনের এমন কিছু বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে, যা মানুষের নেই। আল্লাহর ইচ্ছায় তারা নিজেদের আড়াল করতে পারে এবং বিভিন্ন আকৃতি বা মানুষের রূপও ধারণ করতে সক্ষম।
তিনি জানান, হাদিস ও ইসলামি বর্ণনায় ফেরেশতাদেরও মানুষের রূপে আসার ঘটনা উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে জিনও মানুষের রূপ ধারণ করতে পারে। তবে তারা মূলত আগুন থেকে সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ অবস্থায় মানুষের চোখে দৃশ্যমান হয় না।
তিনি আরও বলেন, ইসলামের শিক্ষা হলো—জিনের অস্তিত্বে বিশ্বাস রাখা, কিন্তু ভূত নিয়ে ভিত্তিহীন কুসংস্কার বা ভয়ের মধ্যে না থাকা। মুসলমানের উচিত কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে বিশ্বাস গড়ে তোলা এবং অমূলক ধারণা থেকে দূরে থাকা।
আরটিভি/জেএমএ



