দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য পণ্য টুথপেস্টেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ উভয়ের জন্যই নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বাংলাদেশের বাজারে বিক্রিত ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে।
গবেষকদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো পাঁচ মিলিমিটারের কম আকারের প্লাস্টিক কণা, যা খালি চোখে দেখা যায় না। দাঁত ব্রাশ করার সময় এসব কণার একটি অংশ অনিচ্ছাকৃতভাবে শরীরে প্রবেশ করতে পারে, আর বাকিটা বর্জ্য পানির সঙ্গে নদী-খাল ও সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ দূষণের কারণ হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। তবে বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের রক্ত, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি, প্লাসেন্টা, শুক্রাণু এবং মস্তিষ্কের টিস্যুতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এসব কণা প্রদাহ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার দুর্বলতা, হৃদ্রোগ, স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা এবং প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, টুথপেস্টে উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। যদিও বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে প্রসাধনী ও টুথপেস্টে মাইক্রোবিডস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। গবেষকদের মতে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। কারণ, তারা দাঁত ব্রাশ করার সময় প্রায়ই টুথপেস্ট গিলে ফেলে। ফলে তাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং বিকাশমান শরীরে এর সম্ভাব্য প্রভাবও বেশি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
গবেষণায় যেসব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেল, কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা, সিগন্যাল গ্রিন টি, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার, সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট, হোয়াইট প্লাস রেড, হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল, সিগন্যাল হোয়াইটেনিং, মেরিল বেবি (স্ট্রবেরি), মেডিপ্লাস টিজিপি, এমপিএম হারবাল, মেডিপ্লাস ডিএস, মেরিল বেবি (অরেঞ্জ), ম্যাজিক হারবাল, মেসওয়াক, ডেন্টিন জেল, ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল এবং হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটি।
অন্যদিকে, গবেষণায় আটটি টুথপেস্টে শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার, জেনফ্রেশ, প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো), সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল, কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ, ক্লোজআপ রেড হট জিঙ্ক ফ্রেশ টেকনোলজি, কোডোমো (অরেঞ্জ) এবং কোলগেট অ্যাকটিভ সল্ট।
গবেষকরা টুথপেস্ট কেনার আগে এর উপাদান সম্পর্কে সচেতন হওয়ার, অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলার এবং প্রাকৃতিক বা ভেষজ বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাজার তদারকি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
আরটিভি/এসকে




