বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) দেশের মোবাইল ফোন গ্রাহকদের সেবা-সংক্রান্ত নানা অভিযোগ শুনতে নিয়মিতভাবে গণশুনানির আয়োজন করে থাকে। তারই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) অনলাইনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ গণশুনানিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে দেড় হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে।
শুনানিতে গ্রাহকরা মোবাইল অপারেটরদের নানা অনিয়ম, অতিরিক্ত চার্জ এবং নেটওয়ার্ক সমস্যাসহ বিভিন্ন ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে গ্রাহকের অজান্তে ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ভিএএস) চালু করে টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি ওঠে। অনেক গ্রাহক বলেন, অনুমতি না দিয়েই অপারেটররা চার্জযুক্ত সার্ভিস চালু করে দিচ্ছে।
এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় কল, ডেটা প্যাকের উচ্চমূল্য, দুর্বল নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট ব্যবহারজনিত সমস্যা এবং সিম রিপ্লেসমেন্ট ফি ৩৪৫ টাকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, না জানিয়ে তাদের সিম রিসাইকেল করে দেওয়া হয়েছে। নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদল করলেও (MNP) কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না অনেকেই। কলরেট ৪৫ পয়সা থেকে কমানোর দাবিও আসে জনগণের পক্ষ থেকে।
বিটিআরসির তরঙ্গ বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক বলেন, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া কোনো টাকা কাটা সার্ভিস চালু করার নিয়ম নেই। এমন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে দেশে সচল সিম সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৮০ লাখ, এবং ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা দিয়ে যাচ্ছে চারটি মোবাইল অপারেটর। বিটিআরসি জানিয়েছে, গণশুনানিতে পাওয়া অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরটিভি/এসকে




